অবৈধ অর্থ পাচার রোধ করতে হবে

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪১

একটা দেশ কখনো শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উন্নতি লাভ করতে পারে না। অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হয়। দল-মত নির্বিশেষে এটা ভাবতে হবে যে আমরা এই দেশের নাগরিক। এবং আমরা দেশকে বিশ্বের দরবারে একদিন সম্মানিত স্থানে নিয়ে যাব। আর এই মানসিকতার জন্য লোভ ত্যাগ করতে হবে। নিজেদের মধ্যে জাগাতে হবে দেশপ্রেম। সুনাগরিক হওয়ার জন্য বুদ্ধি-বিবেক এবং আত্মসংযম সমপন্ন হতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে অর্থপাচারের ঘটনা। দেশ থেকে প্রতি বছর কত অর্থ বিদেশে পাচার হয় তার কোনো তথ্য-উপাত্ত কোথাও নেই। অর্থগুলো কিভাবে পাচার করা হয় সে সম্পর্কে অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংকাররা বলেন, অর্থপাচারের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো বাণিজ্য কারসাজি, আরেকটি হলো হুন্ডি। বাণিজ্য কারসাজি বলতে—যখন কোনো পণ্য আমদানি করা হয় তখন কম দামের পণ্যকে বেশি দাম দেখানো হয়। যার ফলে অতিরিক্ত অর্থ দেশের বাইরে থেকে যায়। অর্থপাচারের দ্বিতীয় মাধ্যম হিসেবে উলে­খ করা হয়েছে হুন্ডি। সরকারি তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, একজন ব্যক্তি ভ্রমণের সময় ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে কি শুধু এই হুন্ডি মাত্র ১২ হাজার ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অথচ এই হুন্ডির মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। পাচার করা অর্থ দিয়ে বিদেশে কী করা হচ্ছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের মতে—এই টাকাগুলো দিয়ে বিদেশে বাড়ি এবং সম্পদ ক্রয় করা হচ্ছে, ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। তাই বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে যথেষ্ট সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। যাতে করে কেউ কোনোভাবেই বিদেশে অর্থ পাচার করতে না পারে। এবং হুন্ডিতে বৃহত্ পরিমাণ অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা করার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

জাফরুল ইসলাম, শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়