রংপুর নগরীর শালবন ইন্দ্রিরা মোড়ে বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য ‘আলোকবর্তিকা’ উন্মোচন করা হয়েছে। তবে কোনো জমকালো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। এই ভাস্কর্য উন্মোচন হওয়ায় দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো। গতকাল বুধবার বেগম রোকেয়ার জন্ম ও প্রয়াণ দিবসে ভাস্কর অনীক রেজার হাতেই লাল কাপড়ে মোড়ানো রোকেয়ার ভাস্কর্যটি উন্মুক্ত করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী এবং কবি-সাহিত্যিকরা।
উন্মোচন পূর্ব আলোচনায় বক্তব্য দেন লেখক রেজাউল করিম মুকুল, সিনিয়র সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাদল, কবি ও অধ্যাপক শাহ্ সুলতান তালুকদার, সহকারী অধ্যাপক আজাহার আলী দুলাল, সহকারী অধ্যাপক এ আই এম মুসা, সহকারী অধ্যাপক অনিমা বর্মণ, সহযোগী অধ্যাপক মাহফিজুল আলম সুজন, কবি ও প্রকাশক মাসুদ রানা শাকিল প্রমুখ।
রংপুর সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে রোকেয়ার ভাস্কর্য নির্মিত হলেও উন্মোচন অনুষ্ঠানে তাদের কোনো কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। এ নিয়ে অনুষ্ঠানে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন অতিথিরা। এ ব্যাপারে ভাস্কর অনীক রেজা বলেন, ভাস্কর্য নির্মাণকাজ শেষে এটি উদ্বোধনের জন্য সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান, প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটুসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমাকে এটি উন্মোচন করতে অনুমতি দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে তাদের কারো না আসার ব্যাপারে আমি ব্যাখ্যা দিতে পারব না।
উন্মোচিত পাথর-কংক্রিটের ভেতর থেকে বের হয়ে আসা আলোকিত রোকেয়ার এই ভাস্কর্যের নামকরণ আলোকবর্তিকা। রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) ১৫ লাখ টাকা অর্থায়নে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর উচ্চতা মাটি থেকে ২০ ফিট। এর মধ্যে শুধু পাথর-কংক্রিট থেকে বেরিয়ে আসা রোকেয়ার অবয়ব লম্বায় প্রায় ১২ ফিট। সমাজ পরিবর্তনে শিক্ষার শক্তি নিয়ে বেরিয়ে আসা রোকেয়ার এই ভাস্কর্যটিতে জন্ম-মৃত্যু সাল উল্লেখসহ তার লেখা কিছু বই ও বাণী রয়েছে।
রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বিগত সিটি মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর আমলে বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্য নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। এরপর ধীরগতিতে চলা নির্মাণকাজ হঠাত্ বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিভিন্ন মহল থেকে ওই ভাস্কর্য নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জোরালো হয়। অবশেষে বছর তিনেক বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয় নির্মাণকাজ। সেই নির্মাণকাজের সমাপ্তি শেষে গতকাল বেগম রোকেয়া দিবসে উন্মুক্ত করা হয় ভাস্কর্য ‘আলোকবর্তিকা।
