আজ ১০ ডিসেম্বর শহিদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের ৪৯তম অন্তর্ধান দিবস। স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর আলবদর ও রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা তাকে তার চামেলীবাগের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। দিনটি আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে।
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশার প্রথম শিকার হন সিরাজুদ্দীন হোসেন। শহিদ সিরাজুদ্দীন হোসেন ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী ও বার্তা সম্পাদক। ব্রিটিশ আমলের শেষভাগ থেকে শুরু করে তার সাংবাদিকতা জীবন স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত ব্যাপ্ত। ১৯৭১ সালে অবরুদ্ধ এই দেশে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করে গেছেন।
১৯৫২ সালে দৈনিক আজাদের বার্তা সম্পাদক থাকা অবস্থায় মহান ভাষা আন্দোলনের পক্ষে তার সাংবাদিকতা বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে অসাধারণ কীর্তি বলে পরিগণিত। শহিদ সিরাজুদ্দীন হোসেন এদেশে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জনক। ইত্তেফাকে তার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ফলে ১৯৬২ সালে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের কুখ্যাত ছেলেধরা দল ধরা পড়ে। মুক্তি পায় ৭২ শিশু। সিরাজুদ্দীন হোসেন ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউট অ্যাওয়ার্ডের (আইপিআই) মনোনয়ন লাভ করেন।
যশোরের খাজুরা উপজেলায় শহিদ সিরাজুদ্দীন হোসেন সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ আগামী ১৪ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় কলেজ প্রাঙ্গণে শহিদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন স্মরণে মিলাদ মাহফিল এবং আলোচনাসভার আয়োজন করেছে। শহিদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে মসজিদে কোরআনখানি এবং মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। —প্রেস বিজ্ঞপ্তি
