নোয়াখালীর ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত বসতি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা না থাকায় বিদেশিদের মধ্যে কিছু অমূলক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নেতৃবৃন্দ। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ এ মন্তব্য করেন।
ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করতে নগরীর পতেঙ্গা এলাকার চট্টগ্রাম বোট ক্লাবে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হাফিজ আহমদ মজুমদার এমপি বলেন, নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ভাসানচরের যাতায়াত ও যোগাযোগব্যবস্থা এখনো তেমন একটা ভালো নয়। রোহিঙ্গা শিবিরে পরিদর্শনের জন্য বিদেশিরা যত সহজে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে পারেন, ভাসানচরে যাওয়াটা তত সহজ নয়। বিদেশিদের উদ্বেগের কারণ মূলত এটাই। তবে ভাসানচরের যাতায়াতব্যবস্থা সহজ করার জন্য বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। অচিরেই এই সমস্যা কেটে যাবে।
কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্বেচ্ছায় স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের জন্য তিন মাসের খাদ্যের ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে হাফিজ আহমদ মজুমদার বলেন, ভাসানচরে স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের জন্য রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে এক মাসের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার যদি চায় তাহলে আরো তিন মাসের খাদ্যের ব্যবস্থা করব। মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ভাসানচরে ৫০০ রোহিঙ্গা পরিবারের জন্য হাইজিন কিট, ডিগনিটি কিট, স্লিপিং ম্যাটস, কম্বল ও পানির জেরিকেন ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করেছে।
রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রাম সিটি ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এম এ ছালাম অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপি, ট্রেজারার লুত্ফুর রহমান চৌধুরী হেলাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য ডা. শেখ শফিউল আজম, অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন, মহাসচিব মো. ফিরোজ সালাহ্ উদ্দিন, সোসাইটির ডিজাস্টার রেসপন্স বিভাগের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।
