অর্গানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৩

রাজধানী ঢাকায় মিথেন গ্যাসের ঝুঁকি বাড়িতেছে। ইহা কার্বন ডাই-অক্সাইডের চাইতে ২১ গুণ বেশি বিপজ্জনক হইলেও এই ব্যাপারে কোনো সচেতনতা লক্ষ্য করা যাইতেছে না। ঢাকা শহরে জনসংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়িয়া যাইবার কারণে উত্পাদিত হইতেছে ব্যাপক অর্গানিক বা জৈব বর্জ্য। অর্গানিক বর্জ্য বলিতে বোঝায় সবজি বা অন্যান্য পচনযোগ্য বর্জ্যকে। কিন্তু এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এখনও আমরা পিছাইয়া আছি। সমপ্রতি বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) দুইদিনব্যাপী এক গবেষণা সম্মেলনে ‘অর্গানিক সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড দ্য আরবান পুওর ইন ঢাকা সিটি’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়। তাহাতে বলা হয়, ঢাকা শহরে প্রতিজন মানুষ প্রতিদিন উত্পাদন করিতেছে গড়ে শূন্য দশমিক ৫৬ কেজি বর্জ্য । ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতিদিন বর্জ্য উত্পাদিত হইতেছে তিন হাজার ৮০০ টন। ইহার মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশই অর্গানিক বর্জ্য। এইসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় তাহা পচিয়া গিয়া দুর্গন্ধ ছড়ায়। ইহার সঙ্গে ছড়াইয়া পড়ে মিথেন গ্যাস যাহা জনস্বাস্থ্যসহ পরিবেশের উপর ফেলিতেছে ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব।

উল্লেখ্য, মিথেন গ্যাস এমন এক প্রকার জৈব রাসায়নিক যৌগ, যাহাতে থাকে একটি কার্বন ও চারটি হাইড্রোজেন পরমাণু। জলাভূমিতে নানারকম জৈব পদার্থ পচিয়া গিয়া এই গ্যাস উত্পন্ন হয় বলিয়া ইহাকে মার্শ গ্যাস বা জলাভূমির গ্যাসও বলা হয়, যাহা গৃহস্থালি এবং শিল্পকল-কারখানায় জ্বালানি হিসাবেও ব্যবহূত হয়। আর ইহা ইহতে উত্পন্ন করা হয় কার্বন ব্ল্যাক বা কার্বন গুঁড়া। শিল্পক্ষেত্রে মিথেন মিথাইল অ্যালকোহল, মিথাইল ক্লোরাউড প্রভৃতিও উত্পন্ন করা হয়। অর্থাত্ আমরা বলিতে চাই, অর্গানিক বর্জ্যকে অবহেলা করিবার কোনো অবকাশ নাই।  প্লাস্টিক, সিলভারসহ এই ধরনের বর্জ্যগুলি এখন কিছুটা রিসাইক্লিং করিয়া পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা হইতেছে। অথচ ৭৮ শতাংশ অর্গানিক বর্জ্যের কোনো ব্যবস্থাপনা নাই— যাহা দুঃখজনক। বাড়ির ছাদে ছোট আকারে মাত্র দুইটি গাড়ির টায়ার ব্যবহার করিয়া আমরা এই ধরনের বর্জ্য হইতে উত্পাদন করিতে পারি বায়োগ্যাস। এই বায়োগ্যাস যেমন পরিবারের রান্নার জ্বালানি চাহিদা পূরণ করিতে পারে, তেমনি ইহার উচ্ছিষ্ট অংশ ব্যবহূত হইতে পারে জৈবসার হিসাবেও। এই ব্যাপারে ব্যাপক সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রয়োজন জনসচেতনতাও।

জানা যায়, ১৯৯১ সালে দেশের শহরগুলিতে প্রতিদিন ছয় হাজার ৪৯৩ টন বর্জ্য উত্পাদিত হইত। ২০০৫ সালে তাহা বাড়িয়া দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৩০০ টনে। আর আগামী ২০২৫ সালে তাহা ৪৭ হাজার ৫৪ টন হইতে পারে বলিয়া ধারণা করা হইতেছে। এই বিপুল অর্গানিক বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার প্রতি নজর দিবার এখনই সময়। যাহারা ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করেন, তাহাদের এই অর্গানিক বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা থাকিলেও বস্তি বা দরিদ্র জনগোষ্ঠী যেখানে বসবাস করেন, সেখানে এই ব্যবস্থা তেমন একটা নাই বলিলেই চলে। ফলে সেখানে মিথেন গ্যাসের ঝুঁকি বাড়িয়া যাওয়া অস্বাভাবিক নহে। অতএব, অর্গানিক বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাব হইতে মুক্ত থাকিয়া যথাসম্ভব ইহা হইতে জ্বালানি উত্পাদন করিয়া ইহার সদ্ব্যবহারে আমাদের অবশ্যই সচেষ্ট হইতে হইবে।