সারা দেশে মাদক প্রবেশের যে সমস্ত পথ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম রাজশাহীর সীমান্তবর্তী বাঘা উপজেলা। এ উপজেলায় দু’টি বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে। এ ছাড়াও মাদক উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে রাজশাহী র্যাব, ডিবি ও বাঘা থানা পুলিশ। এদিক থেকে নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় রয়েছে জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। গত দুই মাসে তারা এ থানায় কোন মাদক মামলা দিতে পারেনি। ফলে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় লোকজন বলেন, একটি সুন্দর জীবন ধ্বংস করে দেয়ার জন্য সবচেয়ে সহজ লভ্যবস্তু মাদক। দেশে মাদক হিসাবে এতদিন দেশি-বিদেশি মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল এবং আফিম এর কথা শোনা গেলেও এখন মাদকসেবীদের বড় একটি অংশ ইয়াবা সেবনকারী। এগুলো প্রায়শ প্রবেশ করছে মিয়ানমার এবং ভারত থেকে।
যার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানকার এক হিসেবে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে প্রায় ৮১ হাজার মাদক সেবনকারী রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ ভাগ ইয়াবা সেবনের সাথে সম্পৃক্ত ।
পুলিশের একটি মুখপত্র জানায়, বর্তমানে জেলার বাঘা সীমান্ত এলাকার ৫-৬ টি গ্রামে প্রায় তিন শতাধিক তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। এদিক থেকে সেবনকারীর সংখ্যা জরিপ করা সম্ভব হয়নি। কারণ রাত পোহালে এ অঞ্চলে মাদক সেবন করতে আসে অসংখ্য বহিরাগত তরুণ যুবক।
সীমান্ত এলাকার লোকজন জানায়, এ অঞ্চলে যারা মাদক ব্যবসায়ী এবং সেবনকারী তাদেরকে গ্রেফতারের বিষয়ে মাঝে মধ্যে র্যাব এবং ডিবি পুলিশসহ স্থানীয় থানা পুলিশের ভূমিকা লক্ষ করা গেলেও যাদেরকে শুধু মাদক নিয়ে কাজ করার জন্য সরকার নিয়োগ দিয়ে রেখেছে জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তাদের ভূমিকা একেবারে নিষ্ক্রিয় ।
বাঘা থানা সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গত দুই মাসে এ থানায় কোন মাদক উদ্ধার কিংবা আটকসহ মামলা দিতে সক্ষম হননি। তবে আগের মাসে একজন সেবনকারীকে (৩পিস) ইয়াবাসহ আটক করে থানায় সোপর্দ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রজশাহী মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইনস্পেক্টর লুৎফর রহমান বলেন, আমি গত আগস্টে রাজশাহী এসেছি। এই মুহূর্তে একটা সাক্ষীতে এসেছি। রেজিস্টার না দেখে সঠিক তথ্য বলতে পারবো না। তবে বাঘায় মামলা কম হলেও অন্য উপজেলায় তাদের সাফল্য রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইত্তেফাক/এএএম
