সমকালীন

পদ্মা সেতু

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:২৪

পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহুমুখী সড়ক ও রেলসেতু। এই সেতুর মাধ্যমে লৌহজং ও মুন্সিগঞ্জের সঙ্গে শরিয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে। অর্থাত্ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে।

পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা আববাহিকায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান, ৬.১৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮.১০ মিটার প্রস্থের সবচেয়ে বড় সেতু। গতকাল অবশিষ্ট স্প্যানটি বসানোর সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর সম্পূর্ণ অবয়ব।

পদ্মা সেতুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প মাওয়া-জাজিরা পয়েন্ট দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সরাসরি সংযোগ তৈরি করবে। এটি অপেক্ষাকৃত অনুন্নত অঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৪৪,০০০ বর্গকিলোমিটার বা বাংলাদেশের ২৯ শতাংশ অঞ্চলজুড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হবে। পরিবহন নেটওয়ার্ক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে গ্যাস, বৈদ্যুতিক লাইন এবং ফাইবার অপটিক ক্যাবল সম্প্রসারণের জন্য ব্যবস্থা রয়েছে। পদ্মা সেতুর কারণে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন গড়ে উঠবে, পাশাপাশি ব্যাবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে আগে থেকে বহুগুণ। এ সেতুর মাধ্যমে খুব কম সময়ে যাতায়াত করা সম্ভব হবে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবে এই পদ্মা সেতু।

দেশের ইতিহাসে তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় সেতু, পূরণ হচ্ছে জনগণের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন, আর এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের বাংলাদেশ।

আহনাফ তাহমিদ