কুমিল্লার বীরচন্দ্র গণপাঠাগার ও নগর মিলনায়তন (টাউন হল) ভবনটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য টাউন হল মাঠে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ ডিসেম্বর। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মান্নান ইলিয়াস ভবনটি পরিদর্শন শেষে বুধবার সার্কিট হাউসে এ বিষয়ে গঠিত কমিটির বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এক কথা বলেন।
সম্প্রতি পুরাতন ভবন ভেঙে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানা গেলে নাগরিক সমাজের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার জেরে এটি প্রত্নসম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে কি না, সরেজমিন পরিদর্শন করে মতামত দাখিলের জন্য ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
গঠিত কমিটির প্রধান ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মান্নান ইলিয়াসের নেতৃত্বে ঐ কমিটি বুধবার সকাল ১১টায় সরেজমিন টাউন হল পরিদর্শন করেন। পরে বেলা ১২টায় কুমিল্লা সার্কিট হাউজে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী কমিটির বৈঠক হয়।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শওকত আলী, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মো. হেলাল উদ্দিন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদেকুজ্জামান, কুমিল্লা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার প্রমুখ।
বৈঠক শেষে অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল মান্নান ইলিয়াস বলেন, ‘টাউন হলের বিষয়ে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেবে। এর আগে কুমিল্লা টাউন হলে সকল শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ ও লোকজনের অংশগ্রহণে গণশুনানী হবে, তা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, ‘এ বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য গণমাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। সেখানে সবাই তাদের সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করতে পারবেন।’
এদিকে কুমিল্লা সার্কিট হাউজে বৈঠক শেষ হওয়ার পর সেখানে উপস্থিত হন টাউন হল কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোক্তা স্থানীয় এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লার উন্নয়ন বিদ্বেষী কিছু লোক বুদ্ধিজীবীদের ভুল বুঝিয়ে তাদের দিয়ে টাউন হল সংরক্ষণের বিষয়ে উন্নয়নের বিপক্ষে বিবৃতি দিয়েছে।
