দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নাকি সচেতনতার অভাব—কোনটা বেশি দায়ী সে সম্পর্কে পাঠকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত আজ প্রকাশিত হলো।
বিশৃঙ্খল সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং আইনের প্রতি চালকদের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের তীব্র প্রতিযোগিতায় বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। আবার অদক্ষ, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞ চালক, যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইনের প্রতি পথচারীদের অসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক প্রশস্ত করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা, পথচারীদের সচেতনতা বাড়ানো এবং শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীবান্ধব সড়ক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে।
আবু ফারুক, বনরূপা পাড়া, বান্দরবান।
সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার বিষয়টি শুধু সংখ্যার বিচারে বিবেচনা করলেই চলে না। সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার বিষয়টি যে একটা বড় জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে, তা কী আমরা উপলব্ধি করতে পারছি? যদি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনানুগ বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা যেত, তবে এমনটি হতো না। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, পণ্যবাহী যানবাহনে অতিরিক্ত মাল বোঝাই ও বিপজ্জনকভাবে যাত্রী পরিবহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থা, সর্বপরি মানুষের অসচেতনতা সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
মো. জিল্লুর রহমান
গেন্ডারিয়া, ঢাকা
অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনা এবং চালক ও সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা, আগে যাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং অদক্ষ চালকের কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। এমনিতেই সংকীর্ণ সড়ক, তার ওপর সিংহভাগ ফুটপাত ও ফুটওভার ব্রিজ ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের দখলে থাকায় পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়।
মোহাম্মদ ফয়সাল
১৪৬ ডি.টি. রোড
পূর্ব মাদারবাড়ি, চট্টগ্রাম।
সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের দেশে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার জন্য অবকাঠামোগত দুর্বলতার থেকে অসচেতনতা অনেক বেশি দায়ী। শহরাঞ্চলের মূল সড়কগুলোর অধিকাংশই ভাসমান হকার, টাউন সার্ভিস বাসস্টেশন, রিকসা ও ট্যাক্সি স্ট্যান্ড, অস্থায়ী বাজার ইত্যাদি দখল করে আছে। তাছাড়া যানবাহনের যান্ত্রিকক্রটিও সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কম দায়ী নয়। সর্বোপরি চালক ও পথচারী উভয়ের সচেতনতা, ট্রাফিক পুলিশের যথাযথ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব।
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।
কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই পর্যবেক্ষণ করতে হবে যেন সড়কে কোনো ফিটনেসবিহীন গাড়ি না থাকে এবং কোনো অদক্ষ বা অনভিজ্ঞ চালক সড়কে গাড়ি নিয়ে বের না হতে পারে। পথচারীদেরকে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করার জন্য জরিমানার আওতায় আনতে হবে। মহাসড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে গাড়ি চলাচলের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করতে হবে এবং সবাই যেন সেটি মেনে চলে তার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। সড়ক নির্মান এবং সংস্কারের সময় অবশ্যই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সড়ক নির্মাণ করতে হবে যেন ত্রুটি এড়ানো সম্ভব হয়।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। যার কারণ আইন অমান্য করা আর অবকাঠামোগত দুর্বলতা।
সালেহা আফরিন বেবি
শিবগঞ্জ, সিলেট।
চালকদের ওভারটেকিংয়ের প্রবণতার কারণে প্রতিদিন ঘটছে নানা রকম দুর্ঘটনা। কখনো একটি বাস আরেকটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছে, কখনো পাশ থেকে। দুই বাসের চাপায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সাধারণ পথচারীরা। চালকদের এই বেপরোয়া মনোভাবের কারণ বেশি ট্রিপ, তত বেশি টাকা। তাই তারা দ্রুত যাত্রা শেষ করতে মরিয়া হয়ে থাকে এবং দুর্ঘটনা ঘটায়।
বিলকিছ আক্তার
কাউনিয়া
সড়ক দুর্ঘটনার জন্য পথচারীদের অসতর্কতা ও অসচেতনতা একটি বড় কারণ। সেই সঙ্গে যানবাহনের বেপরোয়া গতি দুর্ঘটনার প্রধানতম কারণ। যানবাহনে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা, মালামালের ওপর যাত্রী বহন করা ইত্যাদি কারণে বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। তাছাড়া ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা, যাত্রীদের অসহিষ্ণুতা এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর মানসিকতা, ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তা পার হওয়া, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ডের বাইরে যত্রতত্র রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে ওঠানামা করানো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
মেরাদিয়া, ঢাকা।
সড়ক দুর্ঘটনার অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে—বৈধ লাইসেন্সবিহীন ড্রাইভার অথবা অনভিজ্ঞ ড্রাইভার দ্বারা গাড়ি চালানো। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অবকাঠামোগত দুর্বলতার চেয়ে অসচেনতা বেশি দায়ী। আমাদের সড়ক বা মহাসড়কে কিছু ইউটার্ন বা নির্মাণ ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। ড্রাইভার ও সাধারণ মানুষ উভয়ের সচেতনতার মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কামরুজ্জামান
ভাওয়ালগড়, গাজীপুর।
সড়ক দুর্ঘটনা লাগামহীনভাবে বেড়ে চলছে। চালকের অবহেলা, পথচারীর উদাসীনতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা—এসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। অবহেলা করে গাড়ি না চালিয়ে চালক সচেতন হলে, পথচারী সচেতন হয়ে পথ চললে দুর্ঘটনা কমে আসবে।
জিয়াউল হক সরকার
পুবাইল, গাজীপুর।
প্রতিদিন অনেক প্রাণ ঝরে সড়ক-মহাসড়কে। গত এক যুগ ধরে এ নিয়ে সচেতনমূলক প্রচারণা হলেও থামছে না সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল। এসব দুর্ঘটনার জন্য রাস্তার অবকাঠামোগত ত্রুটি এখানে গৌণ, চালক ও জনগণের অসচেতনতাই এখানে দায়ী। যত্রতত্র রাস্তা পারাপার, বাসের জন্য রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা, তাড়াহুড়া করে বাসে ওঠানামা ইত্যাদি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। তাছাড়া চালকের অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, দায়িত্বহীনতার চরম অভাবের কারণে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা।
ডা. মর্জিনা আক্তার
গুলশান, ঢাকা।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার এখনো অনেক বেশি। করোনাকালীন সময়ে দুর্ঘটনার হার একটু কমলেও বর্তমানে তা আবার বাড়ছে। সাধারণত সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়—দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, ওভারটেকিং মানসিকতা, লাইট জাম্পিং করানো, নেশা করে গাড়ি চালানো, অজ্ঞতা, অসচেতনতা ও রাস্তার দুর্বল অবকাঠামো ইত্যাদিকে। তবে ড্রাইভারদের অসচেতনতাই সড়ক দুর্ঘটনার জন্য বেশি দায়ী। পথচারী ও সাধারণ মানুষকে রাস্তাঘাটে চলাচলেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সচেতনতাই পারে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করতে।
গোলাম মাওলা শিমুল
বায়োফার্মা লিমিটেড
দেশের সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু অবকাঠামোগত দুর্বলতা আর সচেতনতার অভাবই দায়ী নয়। প্রশাসনিক দুর্বলতাও সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। সুতরাং যেখানে যা কিছু করা দরকার সেই সম্পর্কে সরকারকেই আগে পরিপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। জনগণের স্বার্থে ক্যালাস প্রোগ্রামের প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করে অতিসত্ব্বর দেশ থেকে অবৈধ গাড়ি আমদানি ও মেয়াদহীন গাড়ি ও লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। গণপরিবহন ও রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
রাজশাহী
সড়ক দুর্ঘটনা নানা কারণে ঘটে থাকে। লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি ব্যবহার, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি দুর্ঘটনা বাড়ায়। তাই লাইসেন্স, গাড়ি ও দক্ষ চালকের জোগান নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমস্যায় সড়ক-মহাসড়ক গাড়ি চলাচলের জন্য নিরাপদ কিনা সেটাও দেখতে হবে। সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরো কঠোর করতে হবে। পরিশেষে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব ।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। সড়কে মৃত্যু কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। সড়কে আইন পাশ হওয়া সত্ত্বেও সড়ক দুর্ঘটনা এখনো বিরাজমান। তাই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সব রকম নিয়মকানুন সবাইকে মানার অভ্যাস করতে হবে।
অ্যাডভোকেট লায়ন মো. রবিউল হোসেন রবি
পুরানা পল্টন, ঢাকা।
সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে মানুষের অসচেতনতা। চালক ও পথচারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
মো. মামুন হোসেন
বংশাল, ঢাকা।
দেশে নিরাপদ সড়কের আইন পাশ হলেও সে তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা কমেনি। সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হচ্ছে নিয়ম না মানা। তাই সড়ক নিরাপদ করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন সচেতনতা।
মো. ইফতেখার হোসেন লিটন
হাইমচর, চর ভৈরবী।
আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত সড়ক-মহাসড়কে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে, যার প্রধাণ কারণ চালক ও পথচারীদের সচেতনতার অভাব। বর্তমান সময়ে সড়ক-মহাসড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটছে, তার পরেও কেন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু! দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
ফারুক আহমেদ
বাঘমারা, রাজশাহী।
প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। ট্রাফিক আইন না মানার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটছে। নিয়মকানুন মেনে সুনির্দিষ্ট লাইনে গাড়ি চালালে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে।
প্রহরী মনিরুজ্জামান
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ।
প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনা অন্যতম কারণ হচ্ছে জনসাধারণের সচেতনতার অভাব। সড়কের আইন পাশ করা হলেও দুর্ঘটনা কমেনি। তাই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে অবকাঠামাগত দুর্বলতা দূর করতে হবে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
ফেরদৌসী বেগম গীতালী
ধানমন্ডি, ঢাকা।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে জেল-জরিমানা বহু গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হলেও সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা আসেনি। সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে হলে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ করতে হবে।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ
মিরপুর, ঢাকা।
দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে এ কথা অস্বীকার করা যাবে না। অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং নাগরিকদের সচেতনতার অভাব উভয়ই দায়ী। রাস্তা পারাপার, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, ওভারটেকিং, অদক্ষ গাড়িচালক, চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘঠে। মানুষের চলাচলে নিরাপত্তার বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে এসব অনিয়ম দূর করতে পারলে সড়কে দুর্ঘটনা বন্ধ হবে।
মাসুদ-উজ-জামান
তোপখানা, ঢাকা।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মকে সবার আগে দূর করতে হবে। বেশি বেশি প্রচার এ প্রচারণার মাধ্যমে জনগনকে সচেতন করতে হবে।
রাসেল আহমেদ
মুগদা, ঢাকা।
