আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। শীতের তীব্রতার সঙ্গে করোনা বাড়ার বিজ্ঞানভিত্তিক কোনো ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ নেই। তবে শীতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে পারে, যা আমরা করোনা আক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ হিসাবে ভাবছি এবং এই সংক্রমণ ঠেকাতে সেভাবে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। এখন কথা হলো—আমরা করোনা সম্পর্কে কতটুকু সচেতন? মোটেও সচেতন নই। কাজ করছি, ঘুরছি ফিরছি হোটেলে খাচ্ছি, পাবলিক গাড়িতে চড়ছি, সভা-সমাবেশ করছি, একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করছি, হাত মেলাচ্ছি ইত্যাদি আমরা জেনেশুনেই করছি। ফলে কী হচ্ছে? আক্রান্তের হার বাড়ছে। যিনি বা যে মানুষটি আক্রান্ত হলেন তিনি কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিলেন। অথচ করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থানে থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জনসাধারণকে সতর্ক করছে, জরিমানা করছে, শাস্তিও দিচ্ছে। সরকারি অফিস-আদালতসহ সব জায়গায় স্টিকার-ফেস্টুনে লিখে দেওয়া হয়েছে No Mask, No Service। কে শোনে কার কথা? করোনা নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র মাস্ক পরে থাকলেই শতভাগ সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব। আসুন আমরা সতর্ক হই, করোনা নিয়ন্ত্রণ করি, নিজে সুস্থ থাকি, অন্যকে সুস্থ রাখি। আর খেয়াল রাখি—১. খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ঘর থেকে বের না হই, ২. হ্যান্ডশেক না করি, ৩. অবশ্যই কোলাকুলি থেকে বিরত থাকি, ৪. সভা-সমাবেশ এড়িয়ে চলি, ৫. ঘর থেকে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করি, ৬. সঙ্গে হ্যান্ডস্যানিটাইজার রাখি এবং হাতে বারবার ব্যবহার করি, ৭. হাত না ধুয়ে কোনো অবস্থায় নিজের নাক ও মুখে হাত না দেই। নাক ও মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকি, ৮. বাইরে থেকে ফিরলে হাত-পা না ধুয়ে পরিবারের অন্য সদস্যের কাছে না ঘেঁষি। মোটকথা সতর্ক থাকাটাই জরুরি।
কামরুজ্জামান
সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ
মুক্তিযোদ্ধা কলেজ, ভাওয়ালগড়
গাজীপুর
