বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা বোঝাপড়া থেকে শক্তি অর্জন করেছে

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৫১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেছেন বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের (সিয়েরো) নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি ভারত সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

অন্যদিকে ভারতীয় হাইকমিশনের ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে যুগান্তকারী সম্পর্কে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন। তিনি জানান, দুই দেশের গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের                  ভিত্তি যৌথ আত্মত্যাগ, সমতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা। এই সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, বোঝাপড়া এবং মানুষে-মানুষে গভীর সংযোগ থেকে শক্তি অর্জন করেছে।

বৈঠকে করোনা মহামারির কারণে ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে বাংলাদেশি নাগরিকরা যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় দূত আলোচনা করেন। হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ ভিসা প্রদান শুরু হয়েছে, বাকিগুলো কোভিড-১৯ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে দেওয়া হবে।

বিক্রম কুমার সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ৩ কোটি ডোজ সরবরাহের চলমান প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি কোভিড ভ্যাকসিন কার্যকরভাবে বিতরণের জন্য বাংলাদেশি স্বাস্থ্য পেশাদারদের সক্ষমতা বাড়াতে তার সরকারের সহায়তার ইচ্ছার কথাও জানান। তিনি পারস্পরিক স্বার্থে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক পর্যায়ে আন্তঃসংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকার প্রণীত পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়,’ এর পুনরায় উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ পরবর্তী নতুন স্বাধীন দেশ পুনর্গঠনে ভারতের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং দায়িত্ব পালনকালে সবরকম সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।

বিক্রম কুমার কৃষি পণ্যের মূল্য সংযোজনে বাংলাদেশের খাদ্য এবং কৃষি খাতে বিনিয়োগে তার দেশের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তিনি ‘মুজিববর্ষ’ উদ্যাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গৃহীত আগামী দিনের কর্মসূচি সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এসব কর্মসূচি গ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করে এ বিষয়ে তার সরকারের সবরকমের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভারতীয়রা বাংলাদেশের উন্নয়নের সহযোগী হতে চায়। সেই অনুসারে, ১৯৬৫ সালের পূর্বের সংযোগ লাইন, চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেল সংযোগ আগামী ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আসন্ন ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনের সময় আরো কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে সুইস বিনিয়োগ

বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আরো বিনিয়োগ বাড়াতে সুইজারল্যান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্কালে এই আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের একটা যুব সমাজ আছে যারা কাজে অত্যন্ত দক্ষ। সুইজারল্যান্ড যদি এখানে আরো বেশি বিনিয়োগ করে তবে উভয় দেশই লাভবান হবে।

বিনিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক মত হয়ে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, এখানে আরো সুযোগ রয়েছে, আরো বিনিয়োগের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। মানব দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের আগ্রহ তারা লক্ষ্য করেছে। দক্ষতা উন্নয়নে তারা বাংলাদেশ সরকারকে সব রকম সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকার যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাচ্ছে তার প্রশংসা করেন সুইস রাষ্ট্রদূত।

রোহিঙ্গাদের  প্রত্যাবাসনে দক্ষিণ কোরিয়ার

সমর্থন কামনা প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার অব্যাহত সমর্থন কামনা করেছেন। বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার (রিপাবলিক অব কোরিয়া) নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত লি জ্যাং কুয়েন গতকাল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্কালে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। উত্তরে রাষ্ট্রদূত লি আশ্বাস দিয়েছেন যে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে তার সরকার বাংলাদেশের পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে।