কারা ফটকে ছেলের সামনে বিয়ে করা সেই যুবকের জামিন

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২০, ২৩:২৪

রাজশাহী কারা ফটকে বিয়ে করা ধর্ষণ মামলার আসামি গোদাগাড়ী উপজেলার দিলীপ খালকোকে এক বছরের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহেদ চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। 

রাজশাহী কারাগারের কর্মকর্তারা জানান, উচ্চ আদালতে কয়েদী দিলীপ খালকোর জামিনের বিষয়টি তারাও শুনেছেন। তবে কোনো কাগজপত্র পাননি। কাগজপত্র হাতে পেলে আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেবে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।

আইনজীবীরা জানান, খালাতো বোনের সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কের সুযোগে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে দৈহিক মেলামেশা করেছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চৈতন্যপুর গ্রামের সিতানাথ খালকোর ছেলে দিলীপ খালকো। এক পর্যায়ে ওই মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ার পর বিয়েতে রাজি হননি তিনি। পরে ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ড নিয়ে ২০১২ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন সেই যুবক।

সম্প্রতি আসামি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানিতে আইনজীবী বলেন, ভিকটিম (মেয়েটি) এখানে আছে। তারা বিয়ে করতে রাজি আছেন। এরপর আদালত কারাবন্দী আসামি ও ভিকটিমের মধ্যে কারা ফটকেই বিয়ের আয়োজন করতে রাজশাহী কারাগারের তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের এ আদেশের পর কারা ফটকে গত ৫ ডিসেম্বর বিকালে বিয়ে সম্পন্ন করে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর বিষয়টি উচ্চ আদালতকে অবহিত করা হয়।

আইনজীবীরা জানান, দিলীপ খালকোর সঙ্গে তার খালাতো বোনের (ভিকটিম) মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দৈহিক সম্পর্কে জড়ান দিলীপ খালকো। এতে ভিকটিম গর্ভবতী হয়ে পড়েন। তারপর দিলীপ আর বিয়ে করতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে একই সালের ২৫ অক্টোবর গোদাগাড়ী থানায় দিলীপের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। 

এ মামলায় আসামির ২০১২ সালের ১২ জুন এক রায়ে দিলীপকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করেন আদালত। সেই থেকে থেকে দিলীপ কারাবন্দী। 

সম্প্রতি দিলীপ হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। ধর্ষণের ফলে ভিকটিমের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তার বয়স এখন আট বছর। সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। গত ৫ ডিসেম্বর রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বাবা-মায়ের বিয়ের সময় সেও উপস্থিত ছিল। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ