পাপুলের স্ত্রী-কন্যার আগাম জামিন নাকচ হাইকোর্টের

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:৩৩

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও অর্থ পাচারের মামলায় লক্ষ্মীপুরের এমপি মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী ও মেয়েকে আগাম জামিন দেয়নি হাইকোর্ট। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদেরকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আসামিদের জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে এ আদেশ দেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চ।

গত ২৬ নভেম্বর হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন এমপি পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধান। এদের মধ্যে সেলিনা ও ওয়াফার জামিন আবেদন শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। সেই মোতাবেক গতকাল সকালে হাইকোর্টে সশরীরে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান পাপুলের স্ত্রী ও মেয়ে।

এদিকে শহিদ ইসলাম এবং তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার এফডিআরে বিনিয়োগকৃত টাকার উত্স এবং সেখান থেকে মানি লন্ডারিং হয়েছে কি না সেই বিষয়ে দেওয়া মতামতে অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের উপপরিচালক মো. আরেফিন আহসান মিঞাকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ৪ জানুয়ারি তাকে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করতে বলা হয়েছে। গত জুলাই মাসে ঐ মতামতে আরেফিন আহসান মিঞা বলেছিলেন, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক হাতিরপুল শাখা থেকে জেসমিন আক্তার এফডিআরের বিপরীতে দুটি ঋণ নিয়েছেন এবং তা পরিশোধ করেছেন। এখানে উল্লিখিত এফডিআরের টাকার উত্স এবং ঋণের টাকা ব্যবহারের ব্যাপারে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং সংঘটিত হতে পারে মর্মে প্রতীয়মান হয়নি। আবার সার্বিক পর্যালোচনায় তিনি বলেছেন, উক্ত চার জনের এফডিআরে বিনিয়োগকৃত টাকার উত্স সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আবার ঋণ হিসাব থেকে কোন কোন খাতে অর্থ ট্রান্সফার করা হয়েছে, অথবা মানি লন্ডারিং হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করা যায়নি।

গত ১১ নভেম্বর শহিদ ইসলাম পাপুল ও তার স্ত্রীসহ চার জনের বিরুদ্ধে কয়েক শ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করে দুদক।