ঈশ্বরগঞ্জে খুঁটি বিহীন বিদ্যুৎ সরবরাহ জীবন ঝুঁকিতে ছয় গ্রামের মানুষ

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬:৪৮

ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার নয়টি গ্রামে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও ছয়টি গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি নেই। ভয়াবহ জীবন ঝুঁকি মাথায় নিয়ে পৌরসভার ছয় গ্রামের প্রায় নয় হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছেন। 

১৯৯৭ সালে ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্তমানে এটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়েছে। এ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২৩ বছর পরও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছে না পৌরসভার গ্রাহকরা।  দত্তপাড়া চরনিখলা রহমতগঞ্জ শিমরাইল পাইভাকুড়ি ধামদী কাকনহাটি নয়শিমুল চর হোসেনপুর এই নয়টি গ্রাম নিয়ে গঠিত ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা। এই নয়টি গ্রামের মধ্যে দত্তপাড়া চরনিখলা চর হোসেনপুর গ্রামে আংশিক এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি থাকলেও বাকি ছয়টি গ্রামে কোন বিদ্যুতের খুঁটি নেই। 

উপজেলা আবাসিক বিদ্যুৎ প্রকৌশল বিভাগের তথ্য মতে সংশ্লিষ্ট গ্রাম গুলোতে প্রায় নয় হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। তারা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিলও পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু তাদের বাড়িতে কোন বিদ্যুতের খুঁটি নেই। গ্রাহকরা বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে এলটি সার্ভিস ড্রপ তার দিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে বিভিন্ন গাছপালা ও বাঁশ খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সেচ ও গৃহস্থালির কাজ করে যাচ্ছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় গোটা পৌরসভায় বিদ্যুতের তার যেন মাকড়সার জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।  

আরো পড়ুনঃ হাতিয়া হাসপাতালে প্রথম সন্তান প্রসব ভাসানচরের রোহিঙ্গা নারীর

শিমরাইল গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক রুকন উদ্দিন জানান, ঝড় তুফানের সময় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। এবছর বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে শিমরাইল গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিনের দুটি গরুর মৃত্যু হয়।  তিনি বলেন, গ্রাম গুলোতে তারের যে বেহাল অবস্থার কারণে যেকোন সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। 

পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার জানান, পৌরসভার গ্রাম গুলোতে খুঁটি স্থাপন করে গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বরাবর তাগিদ দেওয়ার পরও কোন কাজ হয়নি। 

এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ অধিদপ্তরের আবাসিক প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে বিদ্যুতের খুঁটি নেই এবং গ্রাহকরা জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে তা আমার জানা আছে। কিন্তু কিছুই করার নেই। আমাদের কোন প্রকল্প নেই। যার ফলে গ্রামগুলোতে খুঁটি স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারিভাবে প্রকল্পের আওতায় না নেয়া পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।  তবে চলতি অর্থ বছরে রাজস্ব খাত থেকে শিমরাইল গ্রামে কিছু খুঁটি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।  

ইত্তেফাক/এমএএম