তাঁর প্রতিভার আলোকচ্ছটা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে গিয়েছে বিশ্বলোকে। ইউরোপ থেকে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে আমাদের চিত্রশিল্পের ভাণ্ডারে সংযোজন করেছেন এক নতুন শিল্পমাধ্যম—ট্যাপেস্ট্রি (বুননশিল্প)। প্যারিসের বিখ্যাত চারুবিদ্যালয় একাডেমি অব জুলিয়াঁ থেকে ভাস্কর্য, ফ্রেসকো এবং ট্যাপেস্ট্রির ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নেন। এখানে অধ্যয়নকালেই তাঁর মধ্যে একটি নবচেতনার উন্মেষ ঘটে—‘আমার কল্পনার প্রজাপতিরা উড়ে বেড়াবে। প্রচলিত তেল ও জলরঙে আমার মন ভরত না। এই যেমন পিয়ানো ও অর্গান অপূর্ব যন্ত্র হলেও এককভাবে সংগীতজগতে এদের ভূমিকা জোরালো নয়, ঠিক শিল্পজগতেও প্রচলিত রীতির মধ্যে রয়েছে প্রতিবন্ধকতা। তাই আমি এমন একটি মাধ্যম খুঁজছিলাম যার মাধ্যমে দেশমাতৃকার নিসর্গ ও মানুষকে তুলে ধরতে পারি। আমার সন্ধান অবশেষে সার্থক হলো—ট্যাপেস্ট্রিতে পেলাম আমার ঠিকানা।’
ট্যাপেস্ট্রি শিল্পমাধ্যমটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁকে যে অনুভূতিটি নাড়া দিয়েছে তা হলো এই বুননশিল্প আবহমান বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমাদের মসলিন, জামদানি, নকশিকাঁথা এ দেশের জনচিত্ত জয় করে বিশ্বদরবারে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে সমাদৃত হয়েছে। তাই এই শিল্পী ট্যাপেস্ট্রি মাধ্যমটি বেছে নিয়ে সেটাকে এক শক্ত ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করেন।
এদেশের শিল্পকলা আন্দোলনেও রশিদ চৌধুরীর ভূমিকা অপরিমেয়। সাতচল্লিশের দেশবিভাগের পরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে এদেশে প্রথম শিল্পশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, যা ছিল সম্পূর্ণ ঢাকাকেন্দ্রিক। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে রশিদ চৌধুরীর নেতৃত্বে শিল্পশিক্ষার গোড়াপত্তন হয়। ১৯৬৯ সালে তাঁরই উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম চারুকলা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম শহরে বেশ কিছু শিল্পানুরাগীর সহযোগিতায় গড়ে তোলেন চট্টগ্রাম আর্ট কলেজ। উদ্দেশ্য ছিল—এখানকার পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষা নেবে। শুধু তাই নয়, তাঁর লক্ষ্যই ছিল দেশের তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেবেন শিল্পশিক্ষার প্রণোদনা। এই লক্ষ্য নিয়েই তিনি কাজ করে গেছেন আমরণ।
