অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি

ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্যে গতি বাড়াবে

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:৪৯

এম এ মাসুম

 

বাংলাদেশ-ভুটানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উপলক্ষ্যে ৬ ডিসেম্বর সই হলো অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ)। বিশ্বের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে করা এটাই বাংলাদেশের প্রথম পিটিএ। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ভুটানের স্বীকৃতি দেওয়া এই দিনটিকে শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুই দেশ চুক্তি স্বাক্ষরের দিন হিসেবে বেছে নেয়।

এ চুক্তির আওতায় ভুটানের বাজারে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী, কৃষিজাত পণ্য, প্রসাধনীসামগ্রী, শুঁটকি মাছ, চা, প্লাইউড, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যসহ মোট ১০০ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পেল বাংলাদেশ। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ ভুটানকে ১৮টি পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিচ্ছে। আর বাংলাদেশের ৯০টি পণ্য ভুটানে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাচ্ছে। ভুটান আরো কিছু পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা চাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে এই পিটিএ হলো। এর ফলে বাংলাদেশের আরো ১০টি এবং ভুটানের ১৬টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অর্থাত্ বাংলাদেশের ১০০টি ও ভুটানের ৩৪টি পণ্য এই সুবিধা পাবে। ভুটান থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় পাথর আমদানি করা গেলে দেশে নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় হ্রাস পাবে, যা নির্মাণ খাতের উন্নয়নে সহায়ক হবে। এ ছাড়া স্বল্পমূল্যে কৃষি প্রক্রিয়াকরণ পণ্যের কাঁচামাল আমদানি করা সহজ হবে।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্টের ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলো দিয়ে মালামাল পরিবহন করতে চায় ভূমিবেষ্টিত দেশ ভূটান। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা মাশুল ছাড়ের জন্য তারা দাবি করছে। নৌপথে রৌমারী-চিলমারী হয়ে পণ্য আনা-নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি রেলপথেও ভুটানকে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ করে দিতে বাংলাদেশ প্রাথমিকভাবে রাজি হয়েছে বলে জানা যায়। এজন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রোহনপুর-সিংগাবাদ রেলরুটটি চালু করা হবে। এক সময় ভুটানের সঙ্গে শুধু বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়েই বাণিজ্য সম্পাদিত হতো। তবে এখন স্থলপথে বাণিজ্য বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে তামাবিল, বাংলাবান্ধা ও নাকুগাঁও স্থলবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে (বিবিআইএন) সড়কপথে যাত্রীবাহী, ব্যক্তিগত ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করার ব্যাপারে একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তিনটি দেশ এই সমঝোতার ব্যাপারে একমত হলেও পরিবেশের কারণে ভুটানের সংসদ এখনো এই চুক্তিতে সম্মতি দেয়নি।

জানা গেছে, ভুটানের পর থাইল্যান্ডের সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া আরো ১৭টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চালাচ্ছে সরকার। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ে, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের তথ্য মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে এখন ১৯৮টি দেশের বাণিজ্য রয়েছে। এর মধ্যে ৭১টি দেশের সঙ্গে রয়েছে বাণিজ্য ঘাটতি। বিশাল এ ঘাটতি কমাতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ এবং পিটিএ সইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।