‘আমি আধুনিক, তবে অতি আধুনিক নই, হতেও চাই না’

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:৫০

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত মীর সাব্বির। নতুন চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করেছেন সম্প্রতি। শোবিজ ইন্ডাস্ট্রিতে তার দীর্ঘ এই অভিজ্ঞতা, চলচ্চিত্রের কাজ ও বর্তমান সময় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন তানভীর তারেক

কেমন আছেন? নতুন চলচ্চিত্রের জন্য শুভকামনা। নিজের অভিজ্ঞতাটা শুনতে চাই—

প্রথমত, ভালো আছি। আর ফিল্মের কাজের ক্ষেত্রে বলবো একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ সত্যিই খুব কঠিন কাজ। আমি নাটককে খাটো করে বলছি না। কিন্তু সিনেমা নির্মাণ সত্যিই কঠিন ও বিশাল কাজ। আমি জীবনে যাই করেছি, তা সবসময়ই মন দিয়ে, নিবিষ্ট থেকেই কাজটি করেছি। এই চলচ্চিত্রটিও তেমন।

 

এদেশের ধারাবাহিক নাটকে আপনি আপনার নোয়াশাল দিয়ে মাইলফলক সৃষ্টি করেছেন। এর গল্পটি কী বলবেন?

দেখুন, এর আগে কিন্তু অনেকেই আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে কাজ করেছেন। হুমায়ূন আহমেদ কাজ করেছেন তার নেত্রকোনার ভাষা নিয়ে, বৃন্দাবন দা পাবনা, সালাউদ্দিন লাভলু, মাসুম রেজা কুষ্টিয়া। এটা কিন্তু দারুণ একটা ব্যাপার। কিন্তু এর ভেতরে এক শ্রেণির নির্মাতারা উদ্ভট এক ভাষা নিয়ে এলো। তা প্রমিত বাংলার বাইরে বিকৃতি করা শুরু করলো। সব মিলিয়েই নিজের ভেতরে তাড়না তৈরি করলো নিজ এলাকার ভাষা নিয়ে কাজ করার। তখন আমি ভাবলাম বরিশাল কেন নয়। প্রথমেই কিন্তু নোয়াশাল ধারাবাহিকের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ঠিক এই থিমে ভিন্ন নামে একটি এক পর্বের নাটক করেছিলাম। এরপর এক আড্ডায় প্রথম তারিন আমাকে বললো, নাটকটি তুমিই ডিরেকশন দাও। অনেকের উত্সাহ পেয়ে নির্মাণে এলাম। এটা ৮শ’টির ওপরে পর্ব হবে তা কিন্তু কোনোদিন মাথায় ছিল না। দর্শকদের ভালোবাসায় এটা হয়েছে।

 

বর্তমান ওটিটি সিরিজে তো অনেকেই কাজ করছে। এ নিয়ে রেটিং কন্টেন্ট বিষয়ক একটা তর্কও তৈরি হয়েছে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে। আপনি অভিনয়-নির্মাণ দুটিতেই সমানভাবে সফল। সেক্ষেত্রে জনপ্রিয়তার স্বার্থে এ ধরনের সাহসী কাজেও দেখা যাবে কি-না আপনাকে। যা অনেক নির্মাতা ‘গল্পের প্রয়োজন’ বলে যুক্তি দেখান। আপনার মূল্যায়ন শুনতে চাই—

আমি কাজের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। মিডিয়াম যেহেতু পরিবর্তন হয়েছে। সবাই আলাদা আলাদা ডিভাইসে দেখেন, তাই হয়তো এটা কেউ কেউ জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভ থেকেই করছে। এটা একান্তই যারা করছে তাদের ব্যাপার। আমি তাদের সাধুবাদও জানাতে চাই না, অসম্মানও করতে চাই না। তারা নিজেদের স্বাধীন বিশ্বাসে কাজ করেছে। এখন প্রশ্নটি যদি আমাকেই করেন তাহলে আমার নিজস্ব কিছু দায় আছে। দায়টা পরিবারের কাছে, আমার সংস্কৃতির কাছে, আমার বাবা-মায়ের কাছে, আমার দেশের কাছে। আমার দেশীয় কালচার কী এসব সাপোর্ট করে? আমি কী আমার পরিবার নিয়ে এসব দেখতে পারবো, বাবাকে বলতে পারবো চলো তোমার ছেলের একটা কাজ দেখাই। সেখানেই আমার নিজস্ব এথিক্সটা বাঁধা দেয়। এটা আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। আমি আধুনিক, তবে অতি আধুনিক নই, হতেও চাই না।

 

এবার একটু পেছনের গল্পে ফিরি। শৈশব বরগুনায়। আপনার এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কার হাত ধরে এ পথে এলেন?

আমি আসলে কারো হাত ধরে উঠে আসিনি। একটু একটু করে হেঁটে নিজের পথ তৈরি করেছি। একটা সামান্য চরিত্রের জন্য বিটিভিতে বসে থেকেছি। এরপর আমার প্রতিভা, ধৈর্য্য ও নিষ্ঠা দেখেই অনেকে কাজ দিয়েছেন। আমি মনে করি কাজের প্রতি যদি কারো সত্যিকার প্রেম থাকে তাহলে কারো গডফাদার প্রয়োজন হয় না।

 

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়েছেন। একজন অভিনেতা হিসেবে এই সম্মান প্রাপ্তিতে আপনার অনুভূতি কেমন?

ভীষণ আনন্দের। এর আগে প্রথম একটি রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে যখন আমি আমন্ত্রণ পেলাম তখন অবাক হয়েছিলাম। ভেবেছি আমি কেন? পরে শুনলাম প্রধানমন্ত্রী আমার নাটক দেখেন। যেকোনো শিল্পীর জন্যই এই বার্তা ভীষণ আনন্দের। ভীষণ অনুপ্রেরণার। আগামী দিনগুলোতে আরো ভালো কিছু করতে চাই। ছবিটি সুন্দর করে শেষ করতে চাই। আপাতত এটিই আমার ধ্যান-জ্ঞান।