ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহ জেলায় গরু লাঙলের চাষ প্রায় উঠে যেতে বসেছে। অনেক গ্রামে গরু লাঙল নেই। অনেক চাষি স্মৃতি হিসেবে লাঙল তুলে রেখেছে। গরু লাঙলের স্থান দখল করেছে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর। যা চাষিদের কাছে কলের লাঙল বলে পরিচিত।
বিগত তিন দশকের মধ্যে চাষাবাদে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। যাদের সামর্থ্য আছে সেসব চাষি নিজেরা পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টর কিনে নেয়। নিজের জমি চাষ করার পর অপরের জমি চাষ করে বাড়তি আয় করে থাকে। ট্রাক্টর দিয়ে এক বিঘা জমি চাষ করতে ৮০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আর পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করতে বিঘাপ্রতি ৭০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। গরু লাঙল দিয়ে চাষে খরচ বেশি হয়।
শৈলকুপা উপজেলা শ্যামপুর গ্রামের চাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, আগে তাদের গ্রামে প্রতি চাষির বাড়িতে গরু লাঙল ছিল। এখন তাদের গ্রামে কেউ গরু লাঙল দিয়ে চাষ করে না। তাদের লাঙল তুলে রেখেছে স্মৃতি হিসেবে। তিনি বলেন, গরু লাঙল ব্যয়বহুল। লাঙল টানা এক জোড়া গরুর দাম কমপক্ষে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। আর একখানা লাঙল তৈরিতে খরচ হয় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি সমস্যা গরু পালন। গোখাদ্যের উচ্চমূল্য। এক আঁটি খড় বিক্রি হয় ৫০-৬০ টাকায়। গমের ভুসির দাম ৩৫ টাকা কেজি। আর এক আঁটি কাঁচা ঘাসের দাম ২০ টাকা। এক জোড়া বলদ পালতে দিনে ১৫০-২০০ টাকা গোখাদ্য লাগে বলে তিনি জানান।
মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের আব্দুর রহমান জানান, তাদের গ্রামে ঘরে ঘরে গরুর লাঙল ছিল। এখন তা কমে মাত্র দু-তিন জন চাষির লাঙল গরু আছে। বাকি সবাই কলের লাঙলে চাষ করেন। কলের লাঙল নানামুখী ব্যবহার করা যায় বলে তিনি জানান। ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, বর্তমানে হাল টানা বলদ একেবারেই কমে গেছে। চাষিরা দুধের জন্য গাভি পালন করে। আর কোরবানির বাজার ধরার জন্য গরু মোটাতাজা করে থাকে।
