সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
কুয়াশার চাদর মুড়ে শীত এসেছে। আর এ শীতে সকাল-সন্ধ্যায় গায়ে গরম কাপড় জড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা ‘ভাপাপিঠা’র স্বাদ পেতে ভালোবাসে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার। এ কারণে সৈয়দপুর শহর ও গ্রামের মোড়ে মোড়ে ভাপাপিঠা খাওয়ার ধুম পড়েছে। ক্রেতাদের চাহিদার কারণেই মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ভাপাপিঠার পাশাপাশি চিতই পিঠা ও তেল পিঠার দোকান নিয়ে বসছেন নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে। শীতের সকাল আর সন্ধ্যায় হাওয়ায় ভাসছে এসব পিঠার ঘ্রাণ। নতুন খেঁজুরের গুড়, আর নতুন চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি হয় এসব পিঠা। গরম পানির ভাপে এ পিঠা তৈরি হয় বলে এর নাম হয়েছে ভাপা পিঠা। শহরের রেলগুন্টি এলাকার বিক্রেতা রমিজউদ্দিন জানালেন, পিঠাকে মুখরোচক করতে গুড় আর নারিকেলের সঙ্গে সামান্য লবণ মেশানো হয়। এতেই স্বাদ বাড়ে বলে জানিয়েছেন দোকানিরা। ভাপাপিঠা তৈরিতে সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়, মাটির হাঁড়ি ও মাঝ বরাবর বড় ছিদ্র করা মাটির ঢাকনা। হাঁড়িতে ছিদ্র করা ঢাকনা লাগিয়ে আটা গুলিয়ে ঢাকনার চারপাশ ভালোভাবে মুড়ে দিতে হয়, যাতে করে হাঁড়ির ভেতরে থাকা গরম পানির ভাপ বের না হতে পারে। ছোট গোল বাটিজাতীয় পাত্রে চালের গুঁড়া খানিকটা দিয়ে তারপর খেঁজুর গুড় দিয়ে আবার কিছু চালের গুঁড়া দিয়ে বাটিটি পাতলা কাপড়ে পেঁচিয়ে ঢাকনার ছিদ্রের মধ্যখানে বসিয়ে দেওয়া হয়। দুই/তিন মিনিট ভাপে রেখে সিদ্ধ হয়ে তৈরি হয় মজাদার ভাপাপিঠা। প্রতিটি ভাপাপিঠা বিক্রি হয় পাঁচ থেকে ১০ টাকায়। কম পুঁজিতে যে কোনো স্থানে সহজে বাজারজাত করা যায় বলে উপজেলার অনেক ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ী এসব পিঠার দোকান করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
