‘কর’ সম্পদের বৈধতা নিশ্চিত করে

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪৫

সরকারের আয়ের অন্যতম উত্স হলো ‘কর’। কাজেই ‘কর’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জনগণ সরকারকে যে কর দেয় বা সরকার জনগণের কাছ থেকে যে কর আদায় করে, তা দিয়ে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা, নানা প্রকার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল পরিচালনা, রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নানা ধরনের সেবা প্রধানত করের অর্থ ব্যয় করেই সম্পন্ন করা হয়। তাই নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে জনগণের কাছ থেকে কর আদায় করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রের কাছ থেকে সেবা পেতে যথাসময়ে যথাযথভাবে কর প্রদান করাও নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

প্রতিটি নাগরিকই কোনো না কোনোভাবে কর দিয়ে থাকেন। যেমন প্রতিটি নাগরিকই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ব্যবহার করে থাকেন। বাড়ির ভিটে-মাটি, ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ব্যবহার বা ভোগ করতে গিয়ে প্রতিটি নাগরিককে কর দিতে হয়। কর প্রদানের বিষয়টি অনেকের কাছেই অজ্ঞাত রয়ে যায়। কর প্রদানের মাধ্যমে সম্পদের বৈধতা নিশ্চিত হয়। স্বত্বাধিকারীর মনে আসে প্রশান্তি। কর নাগরিকের জীবনে স্বচ্ছতা এনে দেয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে কর প্রদানের ব্যাপারে অনেকটা অনীহা লক্ষ করা যায়। এ অনীহার একাধিক কারণ থাকতে পারে। তবে কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা এবং কর প্রদান করতে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতা ও অহেতুক ভোগান্তির আশঙ্কা উল্লেখযোগ্য কারণ বলে অনেকেই মনে করেন। আসলে কর প্রদান নিয়ে জটিলতা বা হয়রানির কোনো কারণ নেই। কর প্রদান করা অনেকটা অভ্যাসের মতোই। নিয়মিত কর দিলে তা সহনশীল এবং অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। কর দিতে শুরু করলেই তা স্বাভাবিক কর্মধারায় পরিণত হয়ে যায়।

করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে অন্যান্য বছরের মতো আয়কর মেলার আয়োজন করা অসম্ভব হলেও আয়কর প্রদানসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। জনগণের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকারি নির্দেশনায় আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

করদাতাদের আস্থা ও আগ্রহ বাড়ছে বলে করদাতার সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। আয়কর আহরণ কেবল সরকারের রাজস্ব তহবিল বাড়ানোর জন্য নয়; সম্পদের সুষম বণ্টন, সামাজিক সুবিচার, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও অঞ্চলগত উন্নয়ন বৈষম্য দূরীকরণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। করদাতারা দেশের উন্নয়নে অংশ গ্রহণে যে আগ্রহী—বিগত মেলাগুলোতে করদাতাদের ভিড় তা প্রমাণ করেছে। সহজ ও উন্নত সেবা প্রদানের মাধ্যমে করদাতাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহকে ধরে রাখার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

একজন আয়কর আইনজীবী হিসেবে আমার আহ্বান, আসুন আমরা নিজে কর দিই এবং অন্যকে কর দিতে অনুপ্রাণিত ও সহযোগিতা করি। সময়মতো সঠিক পরিমাণ কর দিয়ে সম্পদের বৈধতা নিশ্চিত করি। সরকারের হাতকে শক্তিশালী করি এবং দেশের উন্নয়নে অংশ গ্রহণ করি।

n লেখক :আয়কর আইনজীবী