কোরআনের আলো ছড়ান গৃহবধূ মঞ্জুয়ারা

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:১৯

 মো. শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

 প্রায় সাত বছর ধরে নিজ উদ্যোগে স্থানীয়দের কোরআন শিক্ষা দিচ্ছেন মঞ্জুয়ারা বেগম। শিশু ও কিশোরীসহ বিভিন্ন বয়সের কয়েক শ নারীকে তিনি কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। যেসব শিশু মক্তবে গিয়ে কোরআন শিক্ষা নেয়, তারাও শিখতে আসে তার কাছে। যাদের কোরআন কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের তাও কিনে দেন তিনি। তার এমন উদ্যোগে খুশি এলাকাবাসী। তিনি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার গালা গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আবদুল মজিদের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম।

প্রতিদিন বাদ জোহর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি কোরআন শিক্ষা দিয়ে থাকেন। প্রতিদিনই ইউনিয়নের আলমদী, সাখিনী, গালা ও ঘুনি গালা গ্রামের ৬০-৭০ জন আসেন তার কাছে কোরআন শিক্ষা নিতে। এদের মধ্যে শিশু ছেলে, স্কুল-কলেজগামী কিশোরী, গৃহবধূসহ বয়স্ক নারীরাও রয়েছেন। মঞ্জুয়ারা বেগম জানান, প্রায় সাত বছর আগে বাড়ির পাশের এক গৃহবধূ তার কাছে কোরআন শিখতে আসেন। তাকে দেখে গ্রামের আরো কয়েক জন নারীও আসেন তার কাছে। তাদের দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে একে একে আসতে থাকেন অনেকেই। সবাইকে হাসিমুখে গ্রহণ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ওদের সময় দিতে ভালো লাগে আমার। আমি মানুষকে ইসলামি শিক্ষা দিতে চাই। বিনিময়ে কোনো কিছু চাই না। যত দিন বাঁচব, তত দিন মানুষকে কোরআন ও দিনের শিক্ষা দিয়ে যাব।’

মঞ্জুয়ারা বেগমের স্বামী আবদুল মজিদ স্ত্রীর এমন উদ্যোগে ভীষণ খুশি। তিনি বলেন, তার স্ত্রী সংসারের বিভিন্ন কাজ বাকি রেখেও মানুষকে শিক্ষা দেন। তিনি এ বিষয়ে স্ত্রীকে উত্সাহ দেন এবং সহযোগিতা করেন। তিনি জানান, রোদ ও বৃষ্টির জন্য কোরআন শিখতে আসা শিক্ষার্থীদের উঠানে বসতে সমস্যা হয়। তাদের সুবিধার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা প্রয়োজন। এজন্য তিনি সরকারি অনুদান প্রাপ্তির আবেদন জানান। স্থানীয় আলমদী জামে মসজিদের ইমাম মো. হাবিবুল্লাহ জানান, মাঝে মাঝে মঞ্জুয়ারা বেগম বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমার কাছে আসেন। তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটা খুবই ভালো উদ্যোগ। স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য শেখ বারেক বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং সরকারিভাবে তাকে একটি ঘর নির্মাণের জন্য অনুদান প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।’