অনলাইন আলোচনাসভায় বক্তারা
g ইত্তেফাক রিপোর্ট
নারী নির্যাতন নির্মূল করতে হলে মূলধারার নারী আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে হবে। এজেন্ডাভিত্তিক আন্দোলনও গড়ে তুলতে হবে। পুরুষতান্ত্রিকতার শিকার নারী-পুরুষ উভয়ই, এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সর্বক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। আর সমতা প্রতিষ্ঠা করতে নারীকে সম্পত্তিতে সমান অধিকার দিতে হবে। জনতুষ্টির রাজনীতি দূর করে মানবিক সমাজ গড়তে কাজ করতে হবে। বৃহস্পতিবার ‘প্রজন্ম সমতা সংলাপ :নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক’ কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ এবং বিশ্ব মানবাধিকার দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে এই কর্মসূচির আলোচনা করা হয়। ‘ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, আসুন নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই অনলাইন আলোচনাসভার আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি (আপিল বিভাগ) নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, নারী উপার্জনকারী হলেও সে সহিংসতার শিকার হয়। নানা আইন থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই। অনেকে অজ্ঞতার কারণে আইনের আশ্রয় নিতে পারে না। নারীর সুরক্ষার জন্য নানা আইন থাকলেও কেন সহিংসতা বাড়ছে তা খতিয়ে দেখার জন্য তিনি সরকারসহ বেসরকারি সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানান। ধর্ষণের ঘটনা প্রতিহত করতে নতুন সংশোধিত আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে; ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে :ধর্ষণের শিকার নারীকে এখনো অস্পৃশ্য ভাবা হয় সমাজে, এটি দূর করতে হবে। এছাড়াও তিনি উচ্চ আদালত কর্তৃক গৃহীত কিছু নারীবান্ধব আইনের কথা (ফতোয়া নিষিদ্ধ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ অন্যান্য) সংক্ষেপে তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী আন্দোলনের ধারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে এগিয়ে চলেছে। নারীর প্রতি সহিংসতার ধরন বদলেছে, বাস্তবতা বদলেছে। সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে তবে এর বিরুদ্ধে নীরবতা ভেঙে অনেকে প্রতিবাদ করছে। এটি নির্মূল করতে হলে মূলধারার নারী আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে হবে। সভায় আলোচকরা বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করে সমতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে নারী অধিকারের আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সমন্বিতভাবে এবং পুরুষদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের দিকটিও এখন উপেক্ষিত। বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত তরুণরা এখন রাজনীতিতে। সমতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে নারীকে সম্পত্তিতে সমান অধিকার দিতে হবে।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, সংগঠনের সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, জনতা ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার কবিতা রানী দাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক, চিত্রশিল্পী মঞ্জুরি মাধুরীমা নিশুথি এবং প্রতিবন্ধী নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন শিরিন আক্তার প্রমুখ। সভার সঞ্চালনা করেন পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক জনা গোস্বামী এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. মজিবুর হোসেন।
