ভ্যাকসিন আসুক, তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই বড়ো সুরক্ষা

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৩৫

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এখন করোনার ভ্যাকসিন কবে আসবে—এ নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা। করোনার ভ্যাকসিন এলেই এই মহামারি কেটে যাবে—মানুষের মনে এমনই ধারণা। এই ভ্যাকসিন এলেই যে অবরুদ্ধ সময় চলছে তা থেকে মুক্তি মিলবে—এমনটা মনে করলেও আমাদের বাস্তবতা বুঝতে হবে। এই মূহূর্তে ফাইজারের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। ফাইজারের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হওয়ায় মানুষের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। বাংলাদেশের গ্লোবসহ আরো বেশ কিছু দেশে করোনার ভ্যাকসিন গবেষণা         চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে, বাংলাদেশসহ সব দেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে বসে রয়েছে ভ্যাকসিনের প্রত্যাশায়। বাংলাদেশেও সামনের বছরের শুরুতেই ভ্যাকসিন আসা শুরু হবে বলে সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন। তবে, বাংলাদেশের সব মানুষের জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। সরকার ইচ্ছা করলেও সব মানুষের জন্য এই ভ্যাকসিন একসঙ্গে নিয়ে আসতে পারবে না। কেননা, বিশ্বের ৭৬০ কোটি মানুষের জন্য ভ্যাকসিন বানাতে কয়েক বছর লেগে যাবে। সেই ভ্যাকসিন সবার নাগালে পৌঁছানোটাও কম সময়সাপেক্ষ বিষয় নয়! আবার সে ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী? এসবও এখন পর্যন্ত পরিষ্কার নয়। ফাইজারের ভ্যাকসিনেও এলার্জিক রি-অ্যাকশন দেখা যাচ্ছে। তাই, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খুব স্বাভাবিক নয়।

এদিকে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন আসবে সেসব প্রয়োগের জন্য কারা অগ্রাধিকার পাবে, কীভাবে সেগুলো সংরক্ষণ করতে হবে, কোন পদ্ধতিতে তা দেওয়া হবে, এসব খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; যা এখনই পরিকল্পনা করা দরকার। আর সেই পরিকল্পনা মতো দক্ষ জনবলও প্রস্তুত রাখতে হবে।

প্রাথমিক অবস্থায় যে পরিমাণ ভ্যাকসিন আসবে সেই ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে কারা অগ্রাধিকার পাবে? আমার মনে হয়, এই অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকাও তৈরি করে ফেলা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে চিকিত্সক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, হাসপাতালের সব কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নিরাপত্তা কর্মী, সাংবাদিক—যারা করোনা মোকাবিলায় ফ্রন্টলাইনার তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। অগ্রাধিকার দিতে হবে বয়স্কদের। আগে থেকে এসব ঠিক করে না রাখলে ভ্যাকসিন যখন আসবে তখন বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। তাতে মহামূল্যবান ভ্যাকসিনের অপচয় ঘটবে।

তবে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে, ভ্যাকসিনের জন্য প্রতীক্ষায় সময় নষ্ট না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। কারণ, এই সচেতনতাই করোনাকালে আমাদের পৃথিবীর বুকে সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

লেখক : প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিত্সক