বাংলাদেশের পরম বন্ধু ওডারল্যান্ড

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৩০

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাসে ডব্লিউ এ এস ওডারল্যান্ড একটি ব্যতিক্রমী নাম। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার কর্তৃক ‘বীর প্রতীক’ রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত একমাত্র বিদেশি নাগরিক তিনি। জন্মসূত্রে ওলন্দাজ হলেও তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। ১৯৪০ সালে ওলন্দাজ বাহিনীর গেরিলা কমান্ডো হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭০ সালের শেষের দিকে বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ঢাকায় আসেন। কয়েক মাসের মধ্যেই কোম্পানি-ম্যানেজার পদে পদোন্নতি পান। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার। চাকরি করার সুবাধে বাংলাদেশের সর্বত্র যাতায়াতের সুযোগ ছিল তাঁর। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২ বেলুচ রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুলতান নেওয়াজের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন তিনি। পরে সখ্য গড়েন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আরো কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে। তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এতোটাই সন্দেহাতীত হয়েছিল যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের হেড কোয়ার্টারে তিনি একজন সম্মানিত অতিথি হিসেবে গণ্য হন এবং সেনাবাহিনীর কাছ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তার ছাড়পত্র পেয়ে যান। কারফিউ চলাকালেও সেনানিবাসসহ সর্বত্র ছিল তাঁর অবাধ যাতায়াত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তত্পরতা ও পরিকল্পনা বিষয়ে জানাতে থাকেন ২ নম্বর সেক্টর হেড কোয়ার্টারে।

তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ, আর্থিক সহায়তা এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য করতে থাকেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে ২ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা শাখার সক্রিয় সদস্যরূপে ওডারল্যান্ড বাটা ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণসহ টঙ্গীর কয়েকটি গোপন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত গেরিলা রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দিতেন। পাশাপাশি তিনি মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে বাংলাদেশে পাকবাহিনীর নৃশংসতা ও গণহত্যার ছবি তুলে গোপনে বহির্বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠান এবং মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।

নাজমুল আলম