এইচএসসি পরীক্ষা:জীববিজ্ঞান

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৩৮

              

প্রিয় শিক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা নিও। আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্রের প্রথম অধ্যায়ের প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস বিষয়ের এইচ.এস.সি পরীক্ষায় সকল বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করছি।

সৃজনশীল প্রশ্ন: কবির সাহেবের ছোট্ট মেয়ে সৃষ্টি গতকাল রাতে দেয়ালে উড়তে থাকা একটি পোকা দেখতে পেয়ে মা মা বলে চিত্কার করে উঠল। মা তাকে শান্ত করার পর, চেয়ে দেখল, পোকাটি আসলে সন্ধিপদী। যার দেহ খণ্ডায়িত ও বেশ শক্ত আবরণে আবৃত। তবে মস্তকে একজোড়া শুঙ্গ আছে।

(ক) সৃষ্টির দেখা পোকাটি আসলে কোন পর্বের?       ১

(খ) উক্ত পর্বের দুটি প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম লেখ।  ২

(গ) উক্ত পর্বের প্রাণীদের অভ্যন্তরীণ শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।                                               ৩

(ঘ) জীবজগতে উক্ত পর্বের প্রাণীদের গুরুত্ব সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।                                                  ৪

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর:

(ক) উত্তর: উদ্দীপকে উল্লেখ আছে পোকাটি সন্ধীপদী , তাই সৃষ্টির দেখা পোকাটি আসলে Arthropoda পর্বের অর্থাত্ Arthro= সন্ধী আর poda = পা বা পদ।

(খ) উত্তর: Arthropoda পর্বের দুটি প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম নিচে দেওয়া হলো:

১. Poekiliocerus pictus - ঘাসফড়িং

২. Periplaneta americana - তেলাপোকা

(গ) উত্তর : উক্ত পর্বের অর্থাত্ Arthropoda পর্বের প্রাণীদের অভ্যন্তরীণ শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যগুলো হলো :

১. এ পর্বের প্রাণীদের সিলোম সংক্ষিপ্ত। আর অধিকাংশ দেহ গহ্বর রক্তে পরিপূর্ণ হিমোসিল।

২. এদের পৌষ্টিকতন্ত্র সম্পূর্ণ। এদের উন্মুক্ত রক্ত সংবহনতন্ত্রটি পৃষ্ঠীয় সংকোচনশীল হূদযন্ত্র, ধমনী এবং হিমোসিল নিয়ে গঠিত।

৩. Arthropoda পর্বের পোকাদের প্রধান রেচন অঙ্গ মালপিজিয়ান নালিকা। এদের স্ত্রী ও পুরুষ পোকা আলাদা ধরণের।

৪. এদের সাধারণত:অন্তনিষেক ঘটে। প্রায় ক্ষেত্রেই এদের রূপান্তর দেখা যায়।

৫. ট্রাকিয়া, দেহত্বক ইত্যাদি দ্বারা এরা শ্বসন সম্পন্ন করে।

৬. মালপিজিয়ান নালিকা প্রধান রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করলেও সবুজ গ্রন্থি ও সিলোমনালী দ্বারা এদের রেচন সম্পন্ন হয়ে থাকে।

(ঘ) উত্তর:জীবজগতে Arthropoda পর্বের প্রাণীদের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। Arthropoda হচ্ছে প্রাণীজগতে সবচেয়ে বড় পর্ব এবং পৃথিবীর তিন চতুর্থাংশ প্রাণীই এ পর্বের অন্তর্ভুক্ত। শুধু সংখ্যাগত দিক থেকে নয়। এদের দৈহিক গঠন, বর্ণময়তা, বসতি, স্বভাব প্রভৃতি বৈচিত্র্যও এ সকল প্রজাতি অনন্য অবস্থান দখল করে আছে। বিভিন্ন ধরণের আর্থোপোডা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। কিছু কিছু আর্থোপোডা মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন- বিভিন্ন ধরণের চিংড়ি- বাগদা ও গলদা কিংবা লব স্টার জাতীয় সন্ধীপদী প্রাণী। এমনকি আমরা এগুলো বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করি। এছাড়াও বেশ কিছু আর্থোপোডা মানুষসহ অন্যান্য জীবের দেহে পরজীবী হিসেবে বসবাস করে থাকে। যেমন বিভিন্ন ধরণের মশা ও মাছি। এরা বিভিন্ন ধরণের রোগ সৃষ্টির জন্যও দায়ী। বিভিন্ন ধরণের আর্থোপোডা পর্বের কীটপতঙ্গ আমাদের রবি শস্যসহ অন্যান্য ফসলী জমিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে থাকে। তেলাপোকা আমাদের বাড়ি-ঘর নোংরা করে ও রোগ জীবাণু ছড়ায়। আবার বেশ কিছু আর্থোপোডা পরিবেশের নান্দনিক সৌন্দর্য্য বহন করে চলেছে। যেমন- ঘাসফড়িং ও প্রজাপতি। যার নান্দনিকতা মনুষ্যকূলকে আকৃষ্ট করে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, এ পর্বের প্রাণীদের মানবসমাজে অর্থনৈতিক ও নান্দনিক দিক থেকে বেশ গুরুত্ব  রয়েছে। এজন্য এ পর্বের প্রাণীদের গুরুত্ব জীবজগতে অপরিসীম।