করোনা :জার্মানি ও রাশিয়ায় এক দিনে রেকর্ড মৃত্যু

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:৩০

করোনা ভাইরাসে গত শুক্রবার জার্মানি ও রাশিয়ায় এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জার্মানিতে মৃত্যুর পাশাপাশি কোভিড সংক্রমণেও রেকর্ড হয়েছে। এদিকে এশিয়ার দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে সর্বোচ্চসংখ্যক লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

গত শুক্রবার জার্মানিতে মারা গেছে ৫৮৫ জন। ঐ দিন দেশটিতে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৮৭৫ জনের। মহামারি শুরুর পর থেকে দেশটিতে এক দিনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই সংখ্যা সর্বাধিক। জার্মানির রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট শুক্রবার আক্রান্ত-মৃত্যুর ঐ পরিসংখ্যান দিয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার কমাতে জার্মানিতে ২৪ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কঠোর লকডাউন আরোপের দাবি ?উঠেছে। জার্মান অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। আগে যা পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার চেয়েও এখন আরো বেশি কিছু করতে হবে।’

গত ২ নভেম্বর থেকে জার্মানিতে আংশিকভাবে লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব বিধি জারি আছে। তবে এতে দেশে সংক্রমণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়নি। এর মধ্যেই আসন্ন বড়দিন উপলক্ষ্যে জার্মানিতে বিধিনিষেধ শিথিলের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। কিন্তু সংক্রমণ বাড়তে দেখে শীর্ষ কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের প্রধান কর্মকর্তা পরিস্থিতি ‘খুবই নাজুক’ বলে বর্ণনা করেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলও এ সপ্তাহে পার্লামেন্ট বুন্দেসটাগে এক আবেঘন ভাষণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। বলেছেন, ‘দিনে ৫০০ মানুষের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।’

গত সপ্তাহের শেষ ভাগ থেকে রাশিয়া তাদের স্পুটনিক-ভি টিকা চিকিত্সক, শিক্ষক ও সমাজকর্মীদের দেওয়া শুরু করলেও দেশটিতে লাগামহীনভাবে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। রাশিয়ার মহামারিবিষয়ক টাস্কফোর্স গত শুক্রবার করোনা ভাইরাসে রেকর্ড ৬১৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৮৯৩। রাজধানী মস্কো আর সেন্ট পিটার্সবার্গের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। তার পরও দেশটি কড়া লকডাউনের পথে হাঁটছে না, বরং কিছু জায়গা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরই নির্ভর করছে। আর এর সঙ্গে চলছে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ।

এদিকে এশিয়ার দেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে সর্বোচ্চসংখ্যক লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীতে আক্রান্তের সংখ্য সবচেয়ে বেশি। এ কারণে দেশটি করোনা বিস্তার নিয়ন্ত্রণ আর ধরে রাখতে পারবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার কর্মকর্তারা আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৫০ জনের করোনায় আক্রান্তের খবর জানিয়েছেন। গত কয়েক দিন ধরেই দেশটিতে ৫০০ থেকে ৬০০ করে লোক করোনায় আক্রান্ত হচ্ছিল। সিউলে ৬৬৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে বলে গতকাল শনিবার জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তারা। এর ফলে ঘণবসিতপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক হারে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন পরিস্থিতিকে মারাত্মক উল্লেখ করে বলেছেন, ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করার আগে এটি সর্বশেষ কঠিন পরিস্থিতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার সব প্রশাসনিক ক্ষমতা কাজে লাগাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।