যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর অনুমোদন পেল ফাইজারের করোনা টিকা

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:৩০

যুক্তরাজ্য, কানাডা, বাহরাইন ও সৌদি আরবের পর এবার জরুরি ব্যবহারে ফাইজার-বায়োএনটেকের কোভিড-১৯ টিকার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো। এদিকে যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা একজোট হয়ে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং স্পুটনিক ভি-র মিলিত ট্রায়ালের ঘোষণা দিয়েছে।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসন (এফডিও) ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিনটি ব্যাপক ভিত্তিতে প্রয়োগে সবুজ সংকেত দেয়। আগের দিন এফডিএর উপদেষ্টা প্যানেলের অধিকাংশ সদস্যও এই অনুমোদনে সুপারিশ করেছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ফাইজারের এ টিকাকে দ্রুত অনুমোদন দিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এফডিএকে ব্যাপক চাপ দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবারের মধ্যে টিকার অনুমোদন না দিতে পারলে পদ ছেড়ে দাও, এফডিএ প্রধানকে এ কথা বলা হয়েছিল বলে গুঞ্জনও রয়েছে। এফডিএ প্রধান স্টিফেন হান অবশ্য এ গুঞ্জনকে ‘অসত্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ‘২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে’ প্রথম টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এদিকে মেক্সিকোর স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাও শুক্রবার ফাইজার-বায়োএনটেকের উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিনের জরুরি অনুমোদন দিয়েছে। দেশটির উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী হুগো লোপেজ-গটাল জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ মোকাবিলায় তারা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে। প্রথম ধাপে ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হবে। মেক্সিকো সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেক্সিকো ফাইজারের ৩ কোটি ৪৪ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন ক্রয়ের চুক্তি করেছে। প্রথম রাউন্ড ভ্যাকসিন দেওয়ার পর তারা জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে ১০ লাখ হারে এবং এপ্রিলে ১ কোটি ২০ লাখ ভ্যাকসিন পাওয়ার আশা করছে। ভ্যাকসিন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এ মহামারি মোকাবিলার সামনের সারিতে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীরা অগ্রাধিকার পাবে।

এদিকে যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা একজোট হয়ে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং স্পুটনিক ভি-র মিলিত ট্রায়ালের ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়ায় ঐ পরীক্ষা চালানো হবে এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সের ব্যক্তিরা ‘ট্রায়ালে’ অংশ নেবেন। তবে ঠিক কত মানুষের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হবে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুইটি একই ধরনের টিকার সংমিশ্রণে মানবদেহে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় অধিকতর উন্নতি হতে পারে। উভয় কোম্পানির টিকা আবিষ্কার পদ্ধতি এক। তারা সার্স-সিওভি-২ স্পাইক প্রোটিন থেকে ‘জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল’ ধারণ করেছে। তাদের টিকা ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার থেকে ভিন্ন।