রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলে দুই দশক ধরে শীতকালীন টম্যাটো আবাদ হচ্ছে। এবার আশানুরূপ ফলন এবং বাজারে ভালো দাম থাকায় লাল-সবুজ টম্যাটো কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের অন্যতম টম্যাটো উত্পাদন অঞ্চল হিসেবে গোদাগাড়ী উপজেলা ও পদ্মার চর সুখ্যাতি অর্জন করেছে। কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে টম্যাটোর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে টম্যাটোর চাষ হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কৃষকরা জানান, এ অঞ্চলের টম্যাটো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে। টম্যাটো আবাদ করে এ অঞ্চলের কৃষক অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। একই জমি থেকে টম্যাটো তোলা যায় আট বার। প্রথম দফায় প্রতি মণ টম্যাটো ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু পরের তিন দফায় দাম কমে হাজারের নিচে এবং তার পরের দফায় ৫০০ টাকায় নেমে আসে। তার পরও লাভ থাকে।
গোদাগাড়ীর টম্যাটো চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর বিপুল প্লাস, বিপুল, বিগল, হাইটমসহ উচ্চফলনশীল উন্নত জাতের টম্যাটোর ফলন ভালো হয়েছে। বাজারের চাহিদা রয়েছে, দামও ভালো যাচ্ছে। এছাড়াও ‘আলোর ফাঁদ’ ব্যবহার করে পোকা দমন করা হয়েছে। অপর চাষি জয় দাস বলেন, টম্যাটো পাকলে প্লাস্টিকের ক্যারেটে বাজারে নিয়ে আসতে হয়। পচনশীল কাঁচামাল, তাই টম্যাটো ঘরে রাখা যায় না। আবার মাঠেও ফেলে রাখা যায় না। ফলে ব্যবসায়ীদের কাছে চাষিরা জিম্মি। টম্যাটো সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে স্থানীয় চাষিরা সারা বছর ভালো দাম পাবেন।
গোদাগাড়ীতে টম্যাটো কিনতে আসা ব্যবসায়ী বশির সরকার বলেন, তিনি ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে টম্যাটো কিনছেন। আরেক ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, টম্যাটো কেনার পর পরিচর্যা করে বাজারজাত করতে হয়। এ জন্য মণপ্রতি তাদের আরো অন্তত ১৫০ টাকা খরচ হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক (ডিডি) শামছুল হক বলেন, টম্যাটো চাষের ব্যাপারে কৃষকদের নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কৃষি বিভাগ থেকে বীজের মান যাচাই করা হচ্ছে। কেউ যাতে নিম্নমানের বীজ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা টম্যাটো চাষে ঝুঁকছে।
