রাণীনগরের আবাদপুকুরে ধান সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য খাদ্যগুদামটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকায় কৃষক তাদের উত্পাদিত ধান সেখানে বিক্রি করতে পারছেন না। এতে নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, আশির দশকে আবাদপুকুর ও তার আশেপাশের এলাকার কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ এবং সংরক্ষণের উদ্দ্যেশ্যে টিপিসি (সাময়িক ক্রয় কেন্দ্র) শাখা খাদ্যগুদাম নির্মাণ করে। এটি নির্মাণের কয়েক বছর পর বন্ধ হয়ে যায়। পরে এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর কয়েক যুগ কেটে গেলেও পরবর্তিতে আর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বর্তমানে গুদামের ভবনটি ক্ষতবিক্ষত দেহ নিয়ে কোনো মতে টিকে আছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, এটি বর্তমানে মাদক সেবক ও ব্যবসায়ীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আর এর আশেপাশের সব জায়গা লিজ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বসতি। আবাদপুকুর থেকে রাণীনগর খাদ্য গুদামের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। এতে বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে। ধান দেওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে এই অঞ্চলের কৃষকরা। তাই তারা বাধ্য হয়েই আবাদপুকুর হাটেই কম দামে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছে ধান বিক্রি করছেন।
আবাদপুকুর বাজারের ব্যবসায়ী রুহুল আমীন বলেন, আবাদপুকুর এলাকায় নতুন করে একটি খাদ্যগুদাম নির্মাণের জন্য আমরা দীর্ঘদিন বলে আসছি। উপজেলার সিংহভাগ ধানই উত্পাদন হয় এই অঞ্চলে। এখানে যদি নতুন করে আধুনিক মানের খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হয় তাহলে উপজেলার একমাত্র খাদ্যগুদামে চাপ অনেকটাই কমতো এবং মজুদের ধারণ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পেতো। যার কারণে দ্বিগুণ সংখ্যক কৃষক সরকারের কাছে ধান দেওয়ার সুযোগ পেতো। যেভাবে প্রতিবছর ধানের উত্পাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে উপজেলার আবাদপুকুর এলাকায় আর একটি নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা খুবই প্রয়োজন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সরকার বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আবাদপুকুরের এই পরিত্যক্ত শাখা খাদ্যগুদামে নতুন করে একটি খাদ্যগুদাম নির্মাণের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। সরকার এটি অনুমোদন এবং অর্থ বরাদ্দ দিলেই খাদ্যগুদাম নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
