করোনার কারণে খুব কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ। সুস্পষ্টভাবে এটা একটা আর্থিক বিপর্যয়। আর এ পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তা কেউ জানে না। যে কোনো সময় যে কোনো কিছু হতে পারে। এখানে পূর্ব পরিকল্পনা কোনো কাজে আসবে না। তাই এ মুহূর্তে দীর্ঘমেয়াদি কোনো আর্থিক পরিকল্পনা নেওয়া উচিত হবে না। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার বিআইবিএমে আয়োজিত ‘সেন্ট্রাল ব্যাংকিং ইন দ্য নিউ নরমাল’ শীর্ষক ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়।
যদিও এ মহামারি পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। যাতে আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলা করা যায় এবং কর্মসংস্থান তৈরি হয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারল্য বৃদ্ধির জন্য নীতি সহায়তার পাশাপাশি কিছু পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে। এ মহামারি সময় কতটা দীর্ঘায়িত হবে তা কেউ জানে না। তাই দেশের আর্থিক খাত রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের পরিচালক শাহ মো. আহসান হাবিব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মো. ফরাস উদ্দিন বলেন, করোনা আমাদের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। সাধারণত, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও সমন্বয় করার জন্য খুব বেশি ঝামেলায় পড়তে হয় না। কিন্তু এ মহামারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্যও একটি প্রতিবন্ধকতা।
নতুন ব্যাংকের অনুমোদন সম্পর্কে সাবেক এ গভর্নর বলেন, ‘নতুন ব্যাংক বৃদ্ধিতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ যত ব্যাংক ও শাখা বাড়বে, জনগণের কাছে ব্যাংকিং সেবা তত তাড়াতাড়ি পৌঁছাবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে একটি ব্যাংকের যে পরিমাণ শাখা থাকে তা আমাদের দেশের একাধিক ব্যাংকের সব শাখার যোগফলের চেয়ে বেশি। নতুন ব্যাংক আসলে ব্যাংকিং সেবার গুণগত মান ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। ব্যাংকিং আরো সহজ হবে। তবে জেলা পর্যায়ে শাখাগুলো ছড়িয়ে দিতে হবে। শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক হলে নতুন ব্যাংক অনুমোদনের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস-উল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনীতি রক্ষায় যথেষ্ট কাজ করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মহামারির মধ্যেও আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তার স্পষ্ট উদাহরণ দেশের রেমিট্যান্স। কিন্তু মিডিয়াতে সবসময় ব্যাংকের নেতিবাচক খবরগুলোই আসে। আমাদের ব্যাংক খাতের অনেক সফলতার গল্প আছে।
মোজাফফর আহমেদ চেয়ার প্রফেসর বরকত-ই খুদা বলেন, এ বছরের শেষের দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুর দিকে যদি করোনার আঘাত শেষ হয় তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সরকারের জন্য করণীয় অনেকগুলো কাজ রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতিকে বাঁচাতে হবে। প্রথমেই, ব্যাংকে তারল্যের পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের জন্য টাকার অভাব না হয়। দ্বিতীয়ত, কর্মসংস্থান বাড়াতে কৃষি, ক্ষুদ্র, মাঝারি খাতে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। করোনা ভাইরাসের ক্ষতি মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজ, পুনঃঅর্থায়ন স্কিম ও ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম পর্যাপ্ত নয়। তবে এটার ওপর এখন আমাদের অর্থনীতি নির্ভরশীল। এ প্যাকেজ আরো বাড়াতেও হতে পারে। নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি প্যাকেজ বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরো শক্তিশালী ভূমিকা প্রয়োজন। সমাপনী বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের ডিজি আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্থনীতি। তবে এ ক্ষতি মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরকম পরিস্থিতিতে কীভাবে কাজ করতে হয় তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভালোভাবেই জানে। এ মুহূর্তে দক্ষতার সঙ্গে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করছে।
