চিম্বুক এলাকায় ম্রো জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ নয়

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:১৯

বান্দরবানে ম্রো জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজন। তারা বলেছেন, ‘এই হোটেল নির্মাণ হলে আদিবাসী জনগোষ্ঠী দেশের ভেতরেই উদ্বাস্তু, শরণার্থীতে পরিণত হবে। পার্বত্য অঞ্চল যেখানে চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে, চিম্বুক এলাকায় যেখানে একটিও হাইস্কুল নেই সেখানে পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণের কোনো যৌক্তিকতা নেই। গতকাল শনিবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি প্রস্তাবিত পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ বাতিলের দাবিতে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানায়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বান্দরবানের চিম্বুক-থানচি সড়কে আদিবাসী ম্রো অধ্যুষিত কাপ্রুপাড়া, দলাপাড়া ও শোং নাম হুং (তথাকথিত ‘চন্দ্রপাহাড়’) জনপদে ঐ হোটেল নির্মাণের জন্য বিস্তৃত এলাকা জুড়ে সীমানা খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

শুরুতেই মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান। তিনি বলেন, একটি বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক জোরপূর্বক এমন বিলাসী স্থাপনা নির্মাণ বান্দরবানের প্রাণপ্রকৃতি এবং ম্রো জাতিসত্তাসহ অন্যান্য আদিবাসী জাতিসত্তার অস্তিত্ব, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও নিরাপত্তার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ।

এতে অংশ নেন প্রফেসর ইমেরিটাস সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, বেলার নির্বাহী প্রধান অ্যাডভোকেট সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশি কবির, নারীপক্ষের শিরিন হক, আইনবিদ ড. শাহদীন মালিক, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক মং শানু, এএলআরডির পক্ষে শামসুল হুদা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নীনা গোস্বামী, লংইয়ান ম্রো, কাইয়েম ম্রো প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, অবিলম্বে এ প্রকল্প বাতিল করতে হবে। এ হোটেল নির্মাণ অমানবিক, অবৈধ। সংবিধান অনুযায়ী গোষ্ঠীগত স্বাধীনতাকে রাষ্ট্র ক্ষুণ্ন করতে পারে না। এখানে ম্রো জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করে হোটেল নির্মাণ সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে।

তাসমিমা হোসেন এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলেন, পর্যটনের নামে আদিবাসী ম্রো জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করার এ পরিকল্পনা বন্ধ করা হোক। পাঁচ তারকা হোটেল নির্মাণ বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ঘটনা নাগরিক অধিকার ধ্বংসের একটি প্রক্রিয়া। ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে যেভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে এটা অবৈধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন। তাছাড়া যেভাবে ভূমি ইজারা দেওয়া হয়েছে সেটা পার্বত্য শান্তিচুক্তি মোতাবেক অবৈধ। এছাড়া হোটেল নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আইনবিদ শাহদীন মালিক, সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, শাহীন আনাম, খুশি কবির, এম এম আকাশ, আনু মুহাম্মদ প্রমুখ।