রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছিল আতঙ্ক আর উত্কণ্ঠা। অপেক্ষার প্রহর গুনছিল তারা, কবে শেষ হবে এই যুদ্ধ? কবে স্বাধীন হবে বাঙালি জাতি? ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর বিকালে রূপগঞ্জের ইছাপুরা ক্যাম্প থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ওপর সর্বশেষ হামলা করেন মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা। পরে রূপগঞ্জ থেকে একে একে পালিয়ে যেতে শুরু করে পাকিস্তানি হানাদারেরা। সূর্যসন্তান শহিদ গোলাম রসুল বকুলসহ ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার প্রাণের বিনিময়ে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর আজকের এই দিনে হানাদারমুক্ত হয় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক বলেন, পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত দিবস উদ্যাপন উপলক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে আজকের এই দিনে আলোচনাসভা, স্মৃৃতিচারণা, দোয়া মাহফিল, মিষ্টি বিতরণসহ আনন্দ উল্লাসের মধ্যে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। করোনা ভাইরাসের কারণে এ বছর স্বল্প পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিবসটি পালিত হবে।
ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, আজ ১৩ ডিসেম্বর ধামরাই পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে ধামরাইয়ের আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল বিজয়ের জয়গান। পতপত করে উড়েছিল বিজয়ের পতাকা। মুক্তিপাগল মানুষ মেতে উঠেছিল আনন্দ উল্লাসে। বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে পরাধীনতার গ্লানি থেকে এই দেশকে মুক্ত করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এ দেশের মুক্তিযোদ্ধারা। ধামরাই থানা মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ জানান, ১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের সহযোগিতায় হানাদার বাহিনী উপজেলার জয়পুরা, কালামপুর, বালিয়া এবং ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকা ও গ্রামগুলোতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী লুটতরাজ, হত্যা, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এই দিন আমছিমুর, পানকাত্তা ও কুশুরায় পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখযুদ্ধ হয়। শহিদ হন উপজেলার খরারচর গ্রামের আবুল বাশার, বাউটিয়া গ্রামের ওয়াহেদ, বৈন্যা গ্রামের মেসের আলী। সহযোদ্ধাদের হারানোর বেদনার মধ্য দিয়ে হানাদারমুক্ত হয় ধামরাই।
