আমনের ভরা মৌসুমেও দাম বাড়ছে চালের

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:৩৩

দেশের হাটবাজারগুলোতে এখন নতুন কাঁচা আমন ধানের গন্ধ। পুরোপুরি আমন কাটা শেষ না হলেও প্রায় প্রতি হাটেই সরবরাহ বাড়ছে ধানের। একদিকে উঠছে নতুন ধান অন্যদিকে বাড়ছে চালের দাম। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) গত বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিবেদনে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা বাড়ার কথা জানিয়েছে। কিন্তু কেন হঠাত্ করে চালের দাম বাড়ছে?

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চলতি বছর পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে দেশে চার দফা বন্যায় আমন আবাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমনের উত্পাদন হবে না। আর আবাদ ভালো না হওয়ায় ধানের দাম বেশি। এর প্রভাব পড়েছে চালের দামের ওপর।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত বোরো মৌসুমে আবাদ ভালো হলেও সরকারের খাদ্য অধিদপ্তর তাদের ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পূরণ করতে পারেনি। সরকারের গুদামে এখন গত কয়েক বছরের তুলনায় কম খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। সেসঙ্গে করোনা মহামারি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খাদ্যশস্য বিতরণের কারণে সরকারের মজুত দ্রুত কমছে। এসব কারণে একটি চক্র সুযোগ বুঝে চালের দাম বাড়াচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সরু চালের দাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে সরু চাল নাজিরশাইল/মিনিকেট ৫৬ থেকে ৬২ টাকা, মাঝারি মানের চাল পাইজাম/লতা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা ও মোটা চাল ইরি/স্বর্ণা ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। অথচ দুই দিন আগে নাজিরশাইল/মিনিকেট ৫২ থেকে ৬০ টাকা, পাইজাম/লতা            ৪৮ থেকে ৫৪ টাকা ও মোটা চাল ইরি/স্বর্ণা ৪৩ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী তৈয়বুর রহমান বলেন, মোকামে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, এবার আমনের মৌসুমে ধানের দাম অনেক বেশি। তাই চালের দাম বেশি বলে মিলাররা তাদের জানিয়েছেন।

সপ্তাহের প্রতি রবিবার বগুড়ার শেরপুরের ভবানীপুরে ধানের বড় হাট বসে। এই হাটে গত রবিবার প্রতি মণ কাঁচা আমন ধান ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অথচ গত বছরও মৌসুমের সময় প্রতি মণ আমন ধান ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে কৃষকরা জানান। বন্যায় ও আমন আবাদের শেষ দিকে অতিবৃষ্টিতে ধানে এক ধরনের ছত্রাকের আক্রমণে আবাদ খারাপ হওয়ায় ধানের দাম বেড়ে গেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, এবার রোপা ও বোনা আমন মিলিয়ে ৫৯ লাখ ১ হাজার ৮১৫ হেক্টর জমিতে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার ৮৭৪ টন ধান উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বন্যার কারণে ৫৪ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমির রোপা আমন ও ৫০ হাজার ৯৫৮ হেক্টর জমির বোনা আমন সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাবে ধানের দাম বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এক অনুষ্ঠানে বলেন, বন্যাসহ নানা কারণে আমনের উত্পাদন ভালো না হওয়ায় ধানের দাম খুব বেশি। তিনি বলেন, এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের চাল আমদানি করতে হবে। সেসঙ্গে আগামী বোরো মৌসুমে ধানের উত্পাদন বাড়াতে হবে। অন্তত ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর উত্পাদন বাড়াতে হবে বলে জানান তিনি। 

উল্লেখ্য, সরকারের মজুত বাড়াতে চলতি মাসেই ভারত থেকে ১ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারের ক্রয় কমিটি। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ২ লাখ টন চাল আমদানি করা হবে। তবে পরিকল্পনা রয়েছে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ লাখ টন চাল আমদানির।

সবজির দাম আরো কমেছে

রাজধানীর বাজারে সরবরাহ বাড়ায় প্রতিনিয়ত কমতির দিকে সবজির দাম। দুই সপ্তাহ আগেও যে ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়, তা এখন ২০ থেকে ৩০ টাকাতেই পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য সবজির দামও সপ্তাহের ব্যবধানে অনেকটাই কমেছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি শিম ২০ থেকে ৩০ টাকা, মুলা ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচা টম্যাটো ২০ থেকে ৩০ টাকা, ঢ্যাঁড়স, পটল, শালগম ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা, বরবটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করল্লা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙ্গা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এছাড়া পুরোনো আলু ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ও নতুন আলু ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর আকারভেদে প্রতিটি বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

এদিকে পেঁয়াজের দাম আরো কমেছে। দেশি পুরোনো পেঁয়াজ মানভেদে কেজিতে পাঁচ টাকা কমে গতকাল খুচরা বাজারে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা ও আমদানিকৃত পেঁয়াজ ২০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নতুন পাতাযুক্ত পেঁয়াজ এক আঁটি (এক কেজি পরিমাণ) ৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।