জাতির পিতার সম্মান রক্ষায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের শপথ

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪৭

 ‘জাতির পিতার সম্মান-রাখবো মোরা অম্লান’ এই স্লোগানে শপথ নিলেন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা। তারা বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি কোনো রকমের অবমাননা ও অসম্মান হতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে তারা জাতির পিতার ভাস্কর্য নিয়ে যে কোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে বদ্ধপরিকর বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, জাতির পিতার অসম্মান মূলত সংবিধান ও রাষ্ট্রের প্রতি অবমাননা। তাই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দায়িত্ব হচ্ছে সংবিধানের প্রতি অনুগত থেকে রাষ্ট্রের সম্মান সুরক্ষা করা।  গতকাল শনিবার সরকারি কর্মকর্তা ফোরামের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর ও জাতির পিতা সম্পর্কে একটি গোষ্ঠী কর্তৃক নানা ধরনের কটূক্তিমূলক মন্তব্যকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গতকাল শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা এই  সমাবেশ করেছেন। অবশ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে সচিবসহ বিভিন্ন স্তরের ৪ সহস্রাধিক কর্মকর্তা এতে যোগ দেন।

ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দে  অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমেদ। দেশে এই প্রথম বারের মতো ২৯টি ক্যাডারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্মিলিত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো।

সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘আমরা আমাদের জীবদ্দশায় জাতির পিতার প্রতি কোনো রকমের অন্যায় ও অসম্মান হতে দেব না, এটাই হলো আজকের অঙ্গীকার। আমরা জনগণের সেবক। সংবিধানে জাতির পিতা রয়েছেন। আমাদের দায়িত্ব সংবিধানকে সমুন্নত রাখা। আমরা যদি থাকি, তাহলে জাতির পিতার অসম্মান হওয়ার সুযোগ নেই।’

সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এখনো এ হুংকার দিয়ে যাচ্ছে যে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর ওপর কোনো রকমের আঘাত সহ্য করা হবে না।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচারণ হয়েছে মন্তব্য করে পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজির আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমার দেশের সংবিধানের অংশ। তিনি আমাদের মানচিত্র দিয়েছেন, দিয়েছেন বাংলা ভাষার স্বীকৃতি। তার ভাস্কর্যের ওপর হামলা মানে সংবিধানের ওপর হামলা, রাষ্ট্রের ওপর হামলা, জনগণের ওপর হামলা। এ ধরনের হামলা আমরা অবশ্যই  দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে মোকাবিলা করব। আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে, রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে ১৮ কোটি মানুষকে নিশ্চিত করতে চাই, বঙ্গবন্ধু ও রাষ্ট্রবিরোধী অপশক্তিকে কঠোর হস্তে মোকাবিলা করব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজকে আমরা দেখি অনেকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আস্ফাালন করেন। কিন্তু তাদের জানা উচিত, আমরা এই দেশের মূলনীতি ও মূলমন্ত্রকে সংরক্ষণের জন্য বদ্ধপরিকর। ইউরোপ আমেরিকা মুসলমানের রক্তে রঞ্জিত। বাংলাদেশকে জঙ্গির রূপ দিতে যারা অপতত্পরতা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিন্তু নিরঙ্কুশ। অপশক্তি কখনো জয়ী হতে পারবে না। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যারা চক্রান্ত করছেন তাদের দমনে আলেম সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে।’

অপরদিকে, জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব বিকাশ কুমার সাহা বলেন, ২০১১ থেকে ১৪ সাল পর্যন্ত পুলিশসহ আমরা সবাই মিলে যেভাবে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের মোকাবিলা করেছি এবারও তাই করতে সবাই আজ প্রস্তুত। অধস্তন আদালতের সবাই জাতির পিতার সম্মান অক্ষুণ্ন রাখতে বদ্ধপরিকর।

এসব সমাবেশে আলোচনায় আরো অংশ নেন বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের সভাপতি ও খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মত্ নাজমানারা খাতুন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, তথ্য থেকে স ম গোলাম কিবরিয়া, শিক্ষা থেকে প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, পররাষ্ট্র থেকে সৈয়দ মাসুদ আহমেদ খন্দকার, স্বাস্থ্য থেকে অধ্যাপক ডা. আ ফ ম সেলিম রেজা, বিসিএস ট্রেড ক্যাডার থেকে মো, মাহমুদুল হক, পরিসংখ্যান থেকে মহিউদ্দিন আহমেদ, পরিবার পরিকল্পনা থেকে মো. মোজাম্মেল হক. সমবায় থেকে মো. গালিব খান, খাদ্য থেকে মো. মুনিরুজ্জামান, রেলওয়ে থেকে ধীরেন্দ  নাথ মজুমদার, ডাক থেকে জেহসান ইসলাম, জনস্বাস্থ্য থেকে সাইফুর রহমান, মত্স্য থেকে বি এম মোস্তফা কামাল, বন থেকে আমীর হোসেন চৌধুরী, আনসার থেকে শামসুল আলম, প্রাণিসম্পদ থেকে ডা. মো ফজলে রাব্বী মন্ডল, নীরিক্ষা ও হিসাব থেকে গোলাম সারোয়ার ভূইয়া, কর থেকে ফজলে আহমেদ কায়ছার, শুল্ক ও আবগারি থেকে সৈয়দ মুসফিকুর রহমান, গণপূর্ত থেকে আশরাফুল আলম, সড়ক ও জনপথ থেকে এ কে এম মুনির হোসেন, টেলিকম থেকে প্রকৌশলী মো. এ তালেব, কৃষি থেকে মো. মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

বিভিন্ন জেলা-উপজেলাতেও বিক্ষোভ সমাবেশ

এদিকে, জাতির জনকের সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার প্রত্যয়ে একই স্লোগানে গোটা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল। এসব সমাবেশে বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, সংবিধান থেকে জাতির পিতাকে আলাদা করা যাবে না। বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। এহেন অপকর্মের বিরুদ্ধে আজ আমরা মনের ক্ষোভ প্রকাশ করতে এসেছি। সবাই আজকে মনের টানে অস্তিত্বের টানে ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভালোবাসার কারণে এসেছি। এই দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভর করে এগিয়ে চলেছে। স্বাধীন সার্বভৌম এই দেশে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। আমরা মনে করি না দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে একটি ভাস্কর্যের কিছু অংশ ভাঙচুর করে বঙ্গবন্ধুর সম্মানহানি ঘটাতে পারে। এই দেশ উন্নয়নের যে উচ্চতায় উঠে যাচ্ছে তা দেখে ঐ অপশক্তির গাত্রদাহ হচ্ছে। তাদেরকে বলতে চাই, আপনারা পরাজিত হবেন। আমরা এই সোনার বাংলাদেশকে গড়ে তুলব মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। বিচার বিভাগসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠান আজ একজোট হয়েছে। স্বাধীনতার চেতনায় আঘাত হানলে আমরা বসে থাকব না। ১৯৭১ সালে দেশের সব পেশাজীবী মানুষ রক্ত দিয়ে যুদ্ধ করে স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছে। এই দেশ আজ উন্নয়নের মডেল। এই উন্নয়ন কেউ থামাতে চাইলে তাদের প্রতিহত করা হবে।