সুনামগঞ্জ পৌরশহরের গুজাউড়া হাছননগরে এনামুল হক মুসা (তালহা) নামের চার বছরের শিশুকে মাথায় পাথর মেরে নির্মমভাবে খুনের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। আটককৃত যুবক ওমর ফারুককে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন নিহত তালহার চাচা নুর হোসেন। মামলা দায়েরের পর খুনি ওমর ফারুককে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাগিব নূরের আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিকে, নিহত শিশু তালহার মরদেহ শনিবার বিকালে তার হাসননগরের বাসভবনে পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিকালে ৫ টায় জানাজা শেষে হাসননগর কবরস্থানে তালহার দাফন সম্পন্ন হয়।
খুনি ওমর ফারুক সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মঈনপুর গ্রামের মৃত ছান্দ আলীর ছেলে।
শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌরশহরের গুজাউড়া হাছননগরে এনামুল হক মুসা তালহাকে মাথায় পাথর মেরে নির্মমভাবে খুন করে ওমর ফারুক। ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন ঘাতক ওমর ফারুককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। শিশু খুনের পুরো ঘটনাটি পাশের একটি সিসিটিভির ক্যামেরা ধরা পড়েছে।
আরো পড়ুনঃ সিনহা হত্যার চার্জশিট আজ
জানা যায়, শিশু তালহা শুক্রবার দুপুরে নিজ বাড়ির সামনে খেলা করছিল। এসময় রাস্তা দিয়ে যাওয়া আব্দুল হালিম নামের ওই যুবক প্রথমে তালহাকে লাথি দিয়ে মাটিয়ে ফেলে দেয়। এরপর ভারি পাথর ও ইট দিয়ে তালহার মাথায় আঘাত করে। এতে তালহার মাথা থেতলে যায় ও প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। রাস্তায় মেটারসাইকেল দিয়ে যাওয়া এক পথচারীর চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন গুরুতর আহত তালহাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বিকালে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তালহাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুনামগঞ্জ সদর থানা ওসি শহিদুর রহমান জানান, আটককৃত ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন নিহত শিশু তালহার চাচা নুর হোসেন। ওমর ফারুককে আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
ইত্তেফাক/এমএএম
