চকরিয়ায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:২২

চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বগাচতর এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র গত কয়েক মাস ধরে অবৈধভাবে পাহাড়-টিলাসহ আবাদি জমি থেকে নির্বিচারে মাটি কেটে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নিজেদের চাষের জমি রক্ষা করতে হিমশিম খাচ্ছেন আশপাশের জমির মালিক ও কৃষকরা। স্থানীয় ভুক্তভোগী জমি মালিক আবুল কাশেম, নেজাম উদ্দিন, দেলোয়ার সওদাগর, চুন্নু মিয়া, নুরুল ইসলাম মাস্টার, মাহাবুব আলমসহ অনেকে অভিযোগ করে জানান, কয়েক মাস ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল কয়েক জনের কাছ থেকে কিছু জমি ইজারা নিয়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে মাটি কেটে নিচ্ছে। শক্তিশালী এক্সকাভেটর দিয়ে জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে ঐ এলাকার আবাদি জমি বর্তমানে পুকুরে পরিণত হয়েছে। ভুক্তভোগী জমির মালিকরা দাবি করেন, তাদের জমির আশপাশ থেকে শক্তিশালী এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে নেওয়ার কারণে বগাচতর এলাকার অন্তত ২০০ একর চাষের জমি হুমকিতে পড়েছে।

জানা গেছে, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়-টিলা এবং পাশের বগাচতর এলাকায় আবাদি জমি কেটে মাটি তোলার অভিযোগ পেয়ে গত ২৯ নভেম্বর অভিযান চালিয়ে দুইটি নাম্বার প্লেটবিহীন ডাম্পার গাড়ি (মিনি ট্রাক) জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ। তিনি বলেন, ঐ ঘটনায় জব্দকৃত দুইটি গাড়িকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জড়িতরা সেখান থেকে আর মাটি কাটবে না মর্মে মুছলেকা দিয়েছেন।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, এখন আমাদের এরিয়ায় কোনো ধরনের পাহাড় কাটা নেই। অবশ্য আগে কয়েকটি এলাকায় পাহাড় কাটা হলেও সেই ঘটনায় ইতিমধ্যে বনবিভাগের পক্ষ থেকে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুল হুদা বলেন, পাহাড় কাটা ও জমির শ্রেণি পরিবর্তন করা একটি বেআইনী কাজ। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।