কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতিতে মাছ চাষ

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:০৫

 ‘মাছে ভাতে বাঙালি’। জাতীয় অর্থনীতিতে মত্স্য খাত এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্থূল জাতীয় উত্পাদনে এ খাতের অবদান শতকরা প্রায় ৪ ভাগ এবং কৃষির উত্পাদনে শতকরা ২১ ভাগ।

অতি অল্প সময়ের মধ্যে মাছ অনেক বড় করার পদ্ধতিকে কার্প ফ্যাটেনিং বলা হয়। পুকুরে মাছ এক বছরেই বড় করা হয় ছয় থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত। আর ১৫ থেকে ১৬ মাসের মধ্যে মাছের ওজন হয়ে থাকে ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত। কার্প ফ্যাটেনিংয়ের বৈশিষ্ট্যে রয়েছে—অত্যন্ত অল্প সংখ্যায় পোনা ছাড়া, সব বড় সাইজ পোনা ছাড়া, সুষম ও গুণগত মান সম্পন্ন খাবার দেওয়া। কার্প ফ্যাটেনিংয়ের জন্য নদী থেকে বিশেষ জালের মাধ্যমে রেণু সংগ্রহ করা হয়। প্রাকৃতিক উত্স থেকে প্রাপ্ত এই রেণুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে এবং দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় এই রেণু থেকে অধিক লাভের সম্ভাবনা থাকে। ভালো পরিবেশ ও সঠিক পরিচর্যা করে দ্রুত মাছ বড় করা, মাছ বড় সাইজের হওয়ায় উচ্চ বাজার মূল্য পাওয়া যায়; মাছ উত্পাদন শেষে জীবন্ত মাছ বাজার জাত করার কারণে উচ্চ বাজার মূল্য প্রাপ্তি।

কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মাছের ঘনত্ব কম থাকায় যথেষ্ট অক্সিজেন থাকে। জমাকৃত মলমূত্রের পরিমাণও কম হয়। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার কারণে খাবার খরচ অনেক কম হয়ে থাকে। মাছের রোগ-বালাই ঝুঁকি এড়িয়ে মাছ উত্পাদন অব্যাহত রাখা যায়। বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ও মাছের মলমূত্র শোধনের সর্বোচ্চ সুযোগ থাকে।

এ পদ্ধতিতে মাছ পাতলা করে চাষ করা হয়। সাধারণ পদ্ধতিতে মাছ ছেড়ে কিছুটা বড় হলেই বাজারজাত করা হয়। কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতিতে পুকুরে পাতলা করে মাছ চাষ করা হয়। এ পদ্ধতিতে বিঘাপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০টি রুই মাছ, মৃগেল ১৫০টি, সিলভার কার্প ৫০টি, মিরর কার্প ২৫-৩০টি, গ্রাস কার্প পাঁচটি করে চাষ করা হয়। সাধারণভাবে যে পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হয়, এর তুলনায় পাঁচ-ছয় গুণ বেশি মাছ চাষ করা হয় ঐ পদ্ধতিতে।

বর্তমান সময়ে চাষিরা কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতিতে নতুন প্রক্রিয়া যোগ করেছেন। কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতিতে কার্প জাতীয় মাছের সঙ্গে মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছ চাষ করছেন। কার্প মাছের সঙ্গে বিঘায় ২ হাজারটি মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ করা যায়। তেলাপিয়া মাছ একেকটি বছর শেষে এক কেজি ওজনের হয়ে থাকে।

 কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতি অনুসরণ করে লাভ : কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে বছরশেষে বিঘাপ্রতি ১০০০-১২০০ কেজি মাছের উত্পাদন পাওয়া যায়। মাছ বড় হওয়ার কারণে এসব মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রয় হয়ে থাকে। এতে বিঘা প্রতি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত মাছ বিক্রয় করা সম্ভব হয়।  মত্স চাষিরা ছোট মাছ উত্পাদন করে বিঘাপ্রতি এক বছরে ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মাছ বিক্রয় করতে পারেন। কার্প ফ্যাটেনিং পদ্ধতিতে মাছ উত্পাদন করে দুই থেকে তিন গুণ বেশি মাছের চাষ করা যাচ্ছে।

কার্প ফ্যাটেনিং একটি নতুন ধারণা বাংলাদেশে। কার্প ফ্যাটেনিং যদি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে বাংলাদেশ মাছ উত্পাদনে প্রথম স্থানে চলে আসবে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, মত্স্য ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়