আঘাত এলে প্রত্যাঘাতের প্রস্তুতি রাখতে হবে

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৫৩

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখব। যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। কিন্তু কেউ যদি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত করতে আসে, তাহলে প্রত্যাঘাত করার মতো সক্ষমতা যেন অর্জন করতে পারি। সেভাবেই আমাদের প্রশিক্ষণ এবং সেভাবেই প্রস্তুতি থাকতে হবে। বিষয়টি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সব সময় মনে রাখতে হবে।’

গতকাল রবিবার সকালে মিরপুর সেনানিবাসের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি)-২০২০ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২০ (এএফডব্লিউসি)-এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “মিয়ানমার থেকে আমাদের দেশে তাদের ১০ লাখের ওপরে নাগরিক আশ্রয় নিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে কখনো সংঘাতে যাইনি এবং আলোচনার মাধ্যমে এটা সমাধানের চেষ্টা করছি এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সবাইকে আমরা আহ্বান জানিয়েছি—এই যে বিশাল একটা বোঝা আমাদের ওপর রয়েছে, এটার যেন তারা দ্রুত সমাধান করে। জাতির পিতার করে যাওয়া দেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এর পুনরোল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেছে। সব থেকে বড় কথা, আমাদের দেশের উন্নতি করতে হবে। তার জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন।” 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা। এর সুফল বাংলার প্রতিটি মানুষের ঘরে আমরা পৌঁছে দিতে চাই। চলমান মুজিববর্ষ থেকে আগামী বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনকালীন দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভূমিহীন, গৃহহীনকে অন্তত একটি করে ঘর করে দেওয়ায় তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলার আহ্বানেরও পুনরুল্লেখ করেন। ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী গড়ে উঠেছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের আপনারা গড়ে তুলবেন।’

একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠা করার জাতির পিতার স্বপ্নের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধু একটি আধুনিক, সুশিক্ষিত ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে ১৯৭৪ সালে প্রণয়ন করেন প্রতিরক্ষানীতি। সেই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করে তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছি।” 

নবীন গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯-এর একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে নিজ নিজ কোর্স সম্পন্ন করে আপনারা আজকে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেবেন। আপনাদের জীবন সফল হোক, আমি সেটাই চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী যে, এনডিসি তার প্রশিক্ষণে উচ্চমানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে এবং এই প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটগণ আপনারা আপনাদের অর্জিত জ্ঞান, ইচ্ছাশক্তি ও অঙ্গীকার সামনে রেখে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, টেকসই, উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা, সর্বপরি গৌরবময় অবস্থানের দিকে নিয়ে যাবেন।’ 

নানা প্রতিকূলতার মাঝেও অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে এনডিসি ও এএফডব্লিউসি কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন ও পরিচালনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী কমান্ড্যান্ট এনডিসিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি অন্য সব ফ্যাকাল্টি সদস্য, রিসোর্স পারসন ও স্টাফ অফিসারদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং আগামী দিনে জাতীয় গর্ব এই প্রতিষ্ঠানের জন্য সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনডিসিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আপনারা রাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন সমস্যা ও ভবিষ্যত্ কর্মপন্থা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছেন, যার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়োগ নিঃসন্দেহে নিজ দেশের জাতীয় অগ্রগতির ধারাবাহিকতাকে বেগবান করবে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আপনারা অবশ্যই কোর্সে অমূল্য জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।’

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমানড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এ বছর ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২০-এ (এনডিসি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩১ জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চার কমোডর এবং একজন ক্যাপ্টেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পাঁচ জন এয়ার কমোডর রয়েছেন।