দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশের সুযোগ নেই সরকারের। সিলেটের একটি দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহারের সরকারি সুপারিশ বিশেষ জজ আদালত গ্রহণ করলেও তা বাতিল করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বিশেষ আদালতের আদেশ বাতিল প্রশ্নে জারিকৃত রুল যথাযথ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার এ রায় দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এ রায়ের ফলে দুদকের দায়েরকৃত কোনো মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকার সুপারিশ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, বিগত ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে দুদকের অনেক মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করার বিষয়েও উচ্চ আদালতের এ রায় সুনির্দিষ্টভাবে সব প্রশ্নের অবসান ঘটাল। একই সঙ্গে এই মামলার বিচারকাজ চলবে বলে জানান তিনি।
বিগত সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৫ এপ্রিল পাচ পিস ত্রাণের ঢেউটিন আত্মসাতের অভিযোগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেমসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬/২০১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিলেটের দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়। ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি দেওয়া অভিযোগপত্রে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। ২০০৯ সালের ১৪ অক্টোবর সিলেটের বিভাগীয় স্পেশাল জজ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেয়।
এমতাবস্থায় ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মামলাটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঐ সুপারিশে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারার আওতায় সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানার ৫ নম্বর মামলাটি প্রসিকিউশন না চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সে লক্ষ্যে উক্ত মামলাটি প্রত্যাহারের সুনামগঞ্জ জেলার পাবলিক প্রসিকিউটরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ করা হলো। এরপরই সুনামগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য আদালতের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করেন। ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি সিলেটের বিভাগীয় স্পেশাল জজ রাষ্ট্রপক্ষের প্রার্থনা মোতাবেক মামলার দায় হতে আসামিদের অব্যাহতি প্রদান করে। এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক। এতে বলা হয়, ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডম্যান্ট অ্যাক্ট ১৯৫৮ এর ১০(৪) ধারা অনুযায়ী সরকারের জায়গায় আইনে ‘কমিশন’ শব্দটি লিখা থাকায় মামলাটি প্রত্যাহারে সুপারিশের সুযোগ নেই সরকারে। ঐ আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগীয় স্পেশাল জজের আদেশ কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে। ঐ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার তা খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন এ কে এম ফজলুল হক। আসামি পক্ষে ছিলেন এস এম শাহজাহান।
