লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহ্বায়ক ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ‘একদলীয় শাসনের অবসান আসন্ন, কলস ভর্তি হয়ে গেছে। এখন ধ্বংসের দিকে আগাবে। আমি বিশ্বাস করি, খুব দ্রুতই একদলীয় শাসনের অবসান হবে। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ আমাদের একদলীয় শাসন থেকে মুক্তি দেবেন।’ ক্ষমতার পালাবদলে করণীয় কী, তা নিয়েও সবাইকে ভাবতে বললেন তিনি।
বিজয় দিবস সামনে রেখে গতকাল রবিবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযুদ্ধ মিলনায়তনে এলডিপি আয়োজিত আলোচনাসভায় অলি আহমদ বলেন, ‘হঠাত্ যদি ক্ষমতার পালাবদল হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসে, তখন যদি ২০০৭ সালের মতো কাপড়-চোপড়ে পায়খানা-প্রশ্রাব করে দেয়, তাহলে আর দেশ চালাতে পারবে না। এবার ফেল হলে চলবে না। আমাদের শক্ত হাতে মুক্তিযোদ্ধাদের এগিয়ে আসতে হবে, শক্ত হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে। একদলীয় শাসনের অবসান হলে তখন আমাদের কী করণীয়? সেজন্য আমরা জাতির উদ্দেশ্যে এলডিপির পক্ষ থেকে কিছু পয়েন্ট দিলাম। সবাই চিন্তা করুক।’
তার দেওয়া ২২ দফা করণীয়র মধ্যে রয়েছে—নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন পদ্ধতিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার, কোনো মধ্যবর্তী বা পুনঃ নির্বাচন নয়, নতুনভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠান, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আমূল পরিবর্তন, দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংস্কার, নতুন সংবিধান রচনা, আইনের সংস্কার, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, দুর্নীতিবাজ, অস্ত্রবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সুষ্ঠু বিচারের জন্য বিভিন্ন জেলায় একাধিক বিশেষ আদালত ও দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের জন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন, রাজনৈতিক দলগুলোকে সাংবিধানিক পন্থায় তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া, বাংলাদেশকে ১২টি প্রদেশে বিভক্ত করা ও সম্পদের সুষম বণ্টন ইত্যাদি। ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিহিংসামূলক সব মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের কথাও বলেছেন অলি।
অলি আহমদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। খালেদা জিয়ার বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং সর্বোপরি জাতির প্রতি তার অবদান বিবেচনায় নিয়ে পুনরায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধমূলক মিথ্যা মামলা জরুরি ভিত্তিতে প্রত্যাহার করতে হবে। অবস্থার পরিবর্তনে সরকারকে পদত্যাগ করে শান্তিপূর্ণ পন্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান তিনি। এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-মহাসচিব তামিজউদ্দিন টিটোর সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক বক্তব্য রাখেন।
