রাউজানে দুর্বৃত্তরা কেটে নিল সামাজিক বনায়নের গাছ

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:১৯

চট্টগ্রামের রাউজানে চুক্তির ভিত্তিতে সামাজিক বনায়নের আওতায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার দু’পাশে লাগানো গাছ দুর্বৃত্ত কর্তৃক কেটে নেয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে জব্দ করেছে বনবিভাগ।

জানা যায়, ২০০৫ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় উপজেলার শহীদ জাফর সড়কে গাছ লাগনোর সময় সামাজিক বনায়নের প্রশাসন ও উপকারভোগীদের চুক্তিনামা হয়েছিল।

চুক্তিপত্র সম্পাদন হয়েছিল উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং  সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে উপকারভোগী জনৈক কাজী বাদশা মিয়াসহ ২০জন স্থানীয় বাসিন্দার সাথে। ২৫ বছরের চুক্তিতে সম্পাদিত চুক্তিপত্র অনুসারে রোপন করা গাছগুলো থেকে আয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থ থেকে বন বিভাগ ১০ শতাংশ, ভূমি মালিক ২০ শতাংশ, উপকারভোগী ৫৫ শতাংশ, ট্রি ফার্মিং ফান্ড (সিএফএফ)১০ শতাংশ ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান (ইউনিয়ন পরিষদ) ৫ শতাংশ পাওয়ার কথা।

উপকারভোগীদের অভিযোগ, গাছগুলো যত্ন করে পরিপক্ব করে তোলা হলে কতিপয় দুর্বৃত্তরা সড়ক উন্নয়নের অজুহাত দাঁড় করিয়ে গাছগুলো কাটা শুরু করে। বিষয়টি তারা গত শনিবার অভিযোগ আকারে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগকে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগটি আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বন বিভাগের স্থানীয় প্রতিনিধিকে নির্দেশ দেন।  

আরো পড়ুন: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে শোকজ

জানা যায়, ইউএনওর নির্দেশ পেয়ে রাউজান বন পরীক্ষণ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুর রশীদ গাছ কাটার স্থানে গিয়ে কাটা গাছগুলো জব্দ করে সেগুলো স্থানীয় এক ইউপি মেম্বরের হেফাজতে দেন।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রাস্তার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সড়ক সম্প্রসারণের অজুহাতে গাছগুলো কেটে নিচ্ছিল। এই সড়কের সংস্কার কাজে নিয়োজিত আছেন সাইফুদ্দিন নামের এক ঠিকাদার। 

বিষয়টি নিয়ে কথা বললে ঠিকাদার সাইফুদ্দিন দাবি করেন, ফটিকছড়ির জনৈক ব্যক্তি গাছগুলো সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে নিলাম নিয়েছিল। সেই নিলাম গ্রহীতা গাছ গুলো কেটে নিচ্ছেন। 

তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ বলেন, তাদের নিলামের গাছ আগেই কেটে নেয়া হয়েছে। এখন যেসব গাছ কাটা হচ্ছে সেগুলো তাদের আওতাভুক্ত নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ ও বন বিভাগের ফাঁড়ি কর্মকর্তা গাছ কাটা ও জব্দ করার কথা স্বীকার করেন।

ইত্তেফাক/এএএম