করোনা ভ্যাকসিন উত্পাদনকারীরা কি ব্যাপক মুনাফা করতে যাচ্ছে?

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৫৬

করোনা ভাইরাস মহামারির শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, টিকা তৈরি করতে অনেক বছর সময় লাগবে। কিন্তু মাত্র ১০ মাস পরেই কিছু দেশে টিকা দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। এসব ভ্যাকসিন যারা তৈরি করেছে, সেই কোম্পানিগুলোর নাম এখন লোকের মুখে মুখে ফিরছে। এর ফলে, বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছে, কমপক্ষে দুই-তিনটি ভ্যাকসিন-উত্পাদক কোম্পানি, যেমন-আমেরিকার মডার্না, জার্মানির বায়োএনটেক এবং তাদের অংশীদার মার্কিন কোম্পানি ফাইজার আগামী বছর সম্ভবত শত শত কোটি ডলার অর্থ আয় করতে চলেছে।

ভ্যাকসিনের প্রয়োজন ছিল জরুরি। তাই বিভিন্ন দেশের সরকার এবং দাতারা টিকা তৈরি এবং তার পরীক্ষার প্রকল্পগুলোতে কোটি কোটি পাউন্ড পরিমাণ অর্থ ঢেলেছে। বৈজ্ঞানিক উপাত্ত বিশ্লেষণকারী কোম্পানি এয়ারফিনিটি বলছে, সব মিলিয়ে সরকারগুলো দিয়েছে ৬৫০ কোটি পাউন্ড। এছাড়া অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো দিচ্ছে প্রায় ১৫০ কোটি পাউন্ড। কোম্পানিগুলো নিজেরা বিনিয়োগ করেছে মাত্র ২৬০ কোটি পাউন্ড, এর মধ্যে অনেকে আবার বাইরের তহবিলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। খবর বিবিসি বাংলার।

আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে ফ্লুর মতোই কোভিড-১৯ পৃথিবীতে অনেক দিন স্থায়ী হবে এবং তা থেকে রক্ষার জন্য বছরে বছরে ‘বুস্টার’ টিকা নিতে হবে। তার মানে হলো, যে ফার্ম সবচেয়ে কার্যকর এবং সাশ্রয়ী ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারবে, তা ততই লাভজনক হবে। বেশ কিছু কোম্পানি, বিশেষ করে যারা বাইরে থেকে অর্থায়ন পেয়েছে, তারা এটা দেখাতে চায় না, বৈশ্বিক সংকট থেকে তারা মুনাফা করছে। সাধারণত ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো একেক দেশে একেক দামে টিকা বিক্রি করে। সরকারগুলোর কত দামে কেনার সাধ্য আছে তার ওপর এটা নির্ভরশীল।

অ্যাস্ট্রাজেনেকা অঙ্গীকার করেছে, যতদিন মহামারি আছে ততদিন তারা টিকার দাম কম রাখবে। তার মানে হচ্ছে আগামী বছরই এর দাম বেড়ে যেতে পারে। মেডিসিন্স ল অ্যান্ড পলিসি নামে একটি গবেষণা সংস্থার পরিচালক এলেন টি হোন বলছেন, বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো প্রথমে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দৌড়ে যোগ দিতে খুব একটা আগ্রহ দেখা যায়নি। কিন্তু যখন সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা অর্থায়নের অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে এলো, তখনই তারা কাজ শুরু করেছিল। কিন্তু এই আবিষ্কারগুলো এখন কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হচ্ছে।