বড়লেখার ২৩ বিদ্যালয় পেল শহিদ মিনার

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:২৫

তপন কুমার দাস, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

বড়লেখার ২৩টি বিদ্যালয়ে নির্মাণ করা হয়েছে শহিদ মিনার। এতদিন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে অস্থায়ী শহিদ মিনার তৈরি করে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাত। এবার মহান বিজয় দিবসের আগে স্থায়ী শহিদ মিনার পেয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ১৫টি প্রাথমিক, তিনটি মাধ্যমিক ও উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি-৩) এর আওতায় দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৬ টাকা। একই প্রজেক্টের আওতায় উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ টাকা। এছাড়া স্থানীয় লোকজন ও চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে উত্তর শাহবাজপুরে আরো তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহিদ মিনার পেয়েছে। দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল হক বলেন, ‘আগে অস্থায়ীভাবে শহিদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা জানানো হতো। এবার বিজয় দিবস থেকে শিক্ষার্থীরা স্থায়ী শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে পারবে।’

দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার ছিল না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শ মতে এলজিএসপি প্রকল্প থেকে ১৮টি প্রতিষ্ঠানে শহিদ মিনার নির্মাণ করে দিয়েছি। আরো প্রতিষ্ঠানে নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।’

উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আহমদ জুবায়ের লিটন বলেন, ‘বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বীর শহিদদের প্রতি শিক্ষার্থীরা যাতে শ্রদ্ধা জানাতে পারে এবং দিবসগুলোর তাত্পর্য উপলব্ধি করতে পারে সেজন্য আমরা শহিদ মিনার নির্মাণ করে দিয়েছি।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের এলজিএসপির প্রকল্প থেকে ২৩টি বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে আগে কোনো শহিদ মিনার ছিল না। বিদ্যালয় চত্বরে শহিদ মিনার নির্মাণ হওয়ায় এখন থেকে স্কুলের শিক্ষার্থীরা জাতীয় দিবসগুলোর তাত্পর্য ও শহিদদের সম্পর্কে জানতে পারবে। যেসব বিদ্যালয়ে শহিদ মিনার নেই পর্যায়ক্রমে সেগুলোতে তৈরি করে দেওয়া হবে।’