মানবসভ্যতার বিবর্তন ও প্রযুক্তির ব্যবহার

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:০৮

মানবসভ্যতা যতই উন্নত হচ্ছে, মানুষ ততই উন্নত পৃথিবী গড়ে তুলছে। নতুন চিন্তা বিকশিত করে মানুষ আজ বিশ্ব জয় করছে। প্রাচীনকালে মানুষ বনজঙ্গলে বন্য পশুদের মতো খাবার খুঁজে বেড়িয়েছে। খাদ্যের সন্ধানে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাযাবরের মতো জীবন অতিবাহিত করেছে। নিজেদের লজ্জা নিবারণের জন্য লতাপাতা ও গাছের ছাল ব্যবহার করেছে। বন্য হিংস্র প্রাণীর হাত থেকে নিজেদের  রক্ষায় মানুষ দলগতভাবে বসবাস করত। তখন মানুষের মধ্যে সাম্যতা অটুট ছিল, কোনো ধরনের সামাজিক বৈষম্য ছিল না। মানুষ এক প্রকৃতির রাজ্যে বসবাস করত। কোনো সামাজিক শ্রেণিদ্বন্দ্ব, গোত্রকলহ, একে অপরে প্রতি ঈর্ষা ছিল না। মানুষ ইচ্ছামতো প্রকৃতির রাজ্যে বিচরণ করেছে।

মানুষের জ্ঞান ক্রমান্বয় বিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানবসভ্যতা উন্নতি সাধনের পরে যখন ব্যক্তিমালিকানা সৃষ্ট হয়; তখন থেকে মানুষ একে অপরের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, গোত্রকলহ, সামাজিক বৈষম্য এবং অপরের সম্পদ আত্মসাত্ করতে থাকে, যা আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে গড়ে উঠেছে রাষ্ট্রযন্ত্র নামক ক্ষমতার প্রধান হাতিয়ার, যে যন্ত্র দ্বারা একটি রাষ্ট্র আরেকটি অপেক্ষাকৃত কম ক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্রের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও জাতিগত বৈষম্য ছাড়াও অন্যান্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। শাসক তার রাষ্ট্র বা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সৈন্যবাহিনীর পাশাপাশি ব্যক্তিগত গুপ্তচরবৃত্তি ও উন্নত মারণাস্ত্র তৈরি অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখা দিয়েছে বর্ণবাদ প্রথা, ধর্মীয় সংঘাত ও উগ্র জাতীয়তাবাদের মতো ভয়াবহ ঈর্ষা। আর এ থেকে সৃষ্টি মানুষের মধ্যে অন্তর্কলহ, যা আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে আধুনিক সমাজে প্রযুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে উন্নতি সাধন হলেও দিনে দিনে সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা হ্রাস পাচ্ছে। আধুনিক যুগে প্রযুক্তির কল্যাণে বৈশ্বিকভাবে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হবে এমন ধারণা পোষণ করেছিলেন চিন্তাবিদেরা। কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিপতিদের হাতের মুঠোয় চলে যাচ্ছে বিশ্ব।

বিশ্ব এখন ধনাঢ্যের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। দরিদ্র দেশ বা জাতির প্রতি সহানভূতি মন্থর।  তবে আধুনিক সমাজ প্রযুক্তির ফলে উন্নত হলেও মূল্যবোধ ও নৈতিকতার অবক্ষয় হচ্ছে। আমরা সহজলভ্য প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার চেয়ে অপব্যবহার বেশি করছি। এর করাণে সামাজিক অপ্রীতিকর কার্য সংঘটিত হচ্ছে। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব ও গুগোল যদি প্রতিটি মানুষ সঠিক কাজে ব্যবহার করতে পারে, তাহলে ব্যক্তিজীবনের উন্নতির পাশাপাশি সামাজিক জীবন সুশৃঙ্খল হবে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করার জন্য প্রতিটি মানুষকে সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কেননা, একমাত্র মূল্যবোধ ও নৈতিকতাই পারে মানুষকে অসামাজিক কাজ থেকে দূরে রাখতে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করা গেলেও পরিবার হলো সমাজের মূল ভিত্তি। তাই  পরিবার থেকে সামাজিক মূল্যবোধ অর্জন করা যায়। তাই প্রত্যক বাবা-মাকে তার সন্তানের হাতে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইজ তুলে দেওয়ার সময় পর্যাপ্ত সতর্ক পন্থা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

 লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়