সরকারি কর্মচারীরা জনগণের সেবা করে থাকে। তার স্বীকৃতি হিসেবে চাকরি শেষে পেনশন বা অন্যান্য ভাতা পেয়ে থাকেন তাঁরা। চাকরি করাকালে তাঁরা টাকা জমা করেন ‘সাধারণ ভবিষ্য তহবিলে’। এই অর্থ তাঁদের পরবর্তী জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। কল্যাণরাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য জনগণের অধিক কল্যাণ সাধন। সেই লক্ষ্যে আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে, ভবিষ্য তহবিলের অর্থ চাকরি শেষে কেউ যদি তুলতে না চায়; রেখে দিতে চায় জমা হিসেবে; তবে সে যেন তা করতে পারে। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি যত দিন বা যত বছর পর্যন্ত তা জমা রাখবেন, তাঁর সেই সঞ্চিত অর্থের ওপর নির্ধারিত শতকরা লভ্যাংশ পেতে থাকবেন। বর্তমানে যেভাবে মূল টাকার ওপর লাভ দেওয়া হয়, সেভাবেই সেটা চলতে থাকবে অর্থাত্ বছর শেষে লাভসহ সঞ্চিত অর্থ পুনরায় মূলধনে পরিণত হবে। কেউ যদি কখনো সবটুকু অর্থ তুলে ফেলতে চায়, তাও যেন সে করতে পারে। আবার সবটুকু না তুলে আংশিক তুলতে চাইলেও সেটাও যেন সম্ভব হয়। আংশিক তোলার পর যে টাকা থেকে যাবে, তাতেও যেন বর্তমান হারে লভ্যাংশ যোগ হতে থাকে। অথবা কেউ যদি ইচ্ছে করে, সঞ্চিত তহবিলকে স্থিতিশীল রেখে বছর-বছর শুধু লাভটুকু তোলার সুযোগও যেন খোলা থাকে। এতে করে চাকরিজীবীরা অবসরের পর তাঁদের জীবদ্দশায় তোলার সুযোগ তো পাবেনই, পাশাপাশি কারো অবর্তমানে তাঁর মনোনীত প্রতিনিধির এই টাকা জমা রাখা বা তোলার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। চাকরিজীবীদের জন্য এমন একটা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে, তা তাঁদের ভবিষ্যতের নিরাপদ জীবন গঠনে আর্থিক বাড়তি নিশ্চয়তা বয়ে আনবে। জমা করা সেইসব অর্থ সরকার বা রাষ্ট্র বিনিয়োগ করেও লাভবান হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহল এমন একটি সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করি।
তোফায়েল হোসেন খান
অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ,
সরকারি আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ
