ডোমারে প্রতারিত হয়ে টাকা খুইয়েছেন সহস্রাধিক নারী

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৫২

নীলফামারীর ডোমারে প্রতারণার শিকার হয়ে টাকা খুইয়েছেন সহস্রাধিক নারী। ঐ হারানো টাকা ফিরে পেতে নারীরা সড়ক অবরোধ করেছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে শহরের রেলঘুন্টির মোড়ে এই সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে এর আগে সকালে তারা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এক ঘণ্টা অবস্থান নেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনা শবনম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার ও ওসি মোস্তাফিজার অবরোধস্থলে এসে তাদের আইনি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। আশ্বাস পেয়ে অবরোধ কর্মসূচি তুলে নেন তারা।

জানা যায়, নানা লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে সহাস্রাধিক নারীকে কর্মী বানায় ডোমার উপজেলা ভোগ্যপণ্য সমবায় সমিতি। এর বিনিময়ে ঐ নারীদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নেওয়া হয়। মাত্র দেড় মাসের মধ্যে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় কথিত সমবায় সমিতি। গত শনিবার সকালে ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে সমিতির ক্যাশিয়ার, দুই জন  ট্রেইনারসহ তিন জন পালিয়ে যায়। এ খবর পেয়ে নারী কর্মীরা ডোমার সাহাপাড়া এলাকার সংগঠনের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এসে দেখেন অফিসে কেউ নেই, তালাবদ্ধ অফিস। কাউকে না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন তারা। দুপুরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর ঐ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও পরিচালক নিজেরাই থানায় গিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন। তখন সহস্রাধিক নারী কর্মী থানায় হাজির হয়ে টাকা ফেরত চান। সবার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সংগঠনের সভাপতি মানিক হাসান মালিক ও পরিচালক মামুন রহমান। তারা ১ কোটি টাকার চেক ও নগদ ৬ লাখ টাকা উপজেলা সমবায় অফিসার নুরুজ্জামানের কাছে জমা দেন। পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান ঐ দুই জন। ছাড়া পাওয়ার পরদিন তারা কর্মীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরুও করেন। কিন্তু গতকাল সোমবার সকাল থেকে তাদের আর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, ডোমারের স্বল্প ও অশিক্ষিত নারীদের টার্গেট করে প্রায় দেড় মাসে আগে গড়ে ওঠে ‘বাংলাদেশ অনলাইন শপিং সার্ভিসেস’। সেখানে ৮০ হাজার টাকা জমা দিলে সাত দিন পর দেড় লাখ টাকা দামের একটি মোটরসাইকেল দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়। এমনকি ১৫ দিন পরে জমাকৃত সেই ৮০ হাজার টাকাও ফেরত দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এমন ঘোষণা শুনে লোভে পড়ে নারীরা সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এদিকে ১ ডিসেম্বর সংগঠনটি উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে ডোমার বাজার ভোগ্যপণ্য সমবায় সমিতি নামে একটি নিবন্ধন নেয়। 

 ডোমার থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘আমরা বারবার তাদের বলেছি ঐ প্রতিষ্ঠানে টাকা জমা না রাখতে। কিন্তু ওনারা আমাদের কথা শোনেননি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীরা যাতে টাকা ফেরত পান, আমরা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। একই সঙ্গে  প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেব আমরা।’