এক যুগের আইনি লড়াইয়ের পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন বিউটি বেগম। তার বাড়ি গাইবান্ধার সদর উপজেলায়। গত ১০ ডিসেম্বর তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পরেও নিয়োগ না দেওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামালসহ পাঁচ জনকে তলব করেছিল আপিল বিভাগ। ঐ তলব আদেশের পরই তাকে নিয়োগ দেয় অধিদপ্তর। এ দিকে আদালত অবমাননার মামলায় গতকাল সোমবার আপিল বিভাগে হাজির হন সাবেক মহাপরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তা। আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর সকলেই নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ ক্ষমার আবেদন মঞ্জুর করে তাদেরকে অব্যাহতি দেন। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত মামলাটি নিষ্পত্তি করে দেয়। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী।
শুনানির এক পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, যখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কোনো আদেশ বাস্তবায়ন না করে ফেলে রাখা হয় তখন আমাদের কিছু বলার থাকে না। আদালতের আদেশ প্রতিপালনে কেন এই অবজ্ঞা।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে স্বল্প সময়ে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তাকে অন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। আপনাদের আদেশ তিনি পাননি। পেলে অবশ্যই বাস্তবায়িত হতো। আদালত বলেন, উনি হয়ত ছিলেন না। বাকি কর্মকর্তারা কী করেছেন? তাদের কাছে কী আদালতের আদেশ পৌঁছায়নি।
আদালতে বিউটি বেগমের পক্ষে আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন শফিক মাহমুদ পুষ্প। ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন জানান, ২০০৮ সালে গাইবান্ধা সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হন বিউটি বেগম। কিন্তু নিয়োগ দেওয়া হয় পরীক্ষায় দ্বিতীয় হওয়া নাজমা সুলতানাকে।
বিউটি বেগম নিয়োগ না পেয়ে গাইবান্ধার সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন। আদালত তাকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেয়। জেলা জজ কোর্ট ও হাইকোর্টেও ঐ আদেশ বহাল থাকে। এর বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট ১৫ দিনের মধ্যে বিউটি বেগমকে নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। ঐ আদেশের পরও নিয়োগ না দেওয়ায় আদালত অবমাননার মামলা হয়। কিন্তু রুলের জবাব না দেওয়ায় তলবের আদেশ দেয় আপিল বিভাগ।
