সরকারের পদত্যাগ দাবিতে গতকাল সোমবার রাজধানীর তিন পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দুপুর ১টার পর থেকেই জিপিও হয়ে পল্টন মোড় ঘিরে মুক্তাঙ্গনে ও বিএনপি অফিসের সামনের সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। পরে লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস মেরে অবস্থানরতদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে পেশাজীবী পরিষদের ব্যানারে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ২০ দলীয় জোট নেতা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ বক্তব্য রাখেন। সভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখান থেকে নেতাকর্মীরা মুক্তাঙ্গনের দিকে অগ্রসর হয়। সরকারের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। মুক্তাঙ্গনে এসে উপস্থিত হন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ। অপরদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও জড়ো হতে থাকেন নেতাকর্মীরা। বেলা ৩টার দিকে পুলিশ লাঠিচার্জ করে সব স্পট থেকে অবস্থানকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান জানান, দলীয় সমন্বিত সিদ্ধান্ত ছাড়াই নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ ও অবস্থানের কারণে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে শোকজ করেছে বিএনপি। সংগঠনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের জন্য তাকে শোকজ করা হয়।
মেজর (অব.) হাফিজকে শোকজ
দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমকে শোকজ করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবান্তর, কটাক্ষমূলক ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বিবৃতি প্রদানের কারণে তিনি দলে সমালোচিত হয়ে আসছিলেন। দলের একটি সূত্র জানায়, মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার বদলে অসহযোগিতা করে আসছেন। সম্প্রতি বিএনপির একটি অঙ্গ সংগঠন পুনর্গঠনে সমন্বয়কের দায়িত্ব দিলে তা পালনে হাফিজ উদ্দিন অপারগতা প্রকাশ করেন। একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
