যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট জো বাইডেনকে এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট কমলা হ্যারিসকে নিশ্চিত করতে বিভিন্ন রাজ্যে ভোট দেওয়া শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাগ্য। স্থানীয় সময় গতকাল সকাল ১০টায় ভোট শুরু হয়। সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ভোট চলার কথা। ইলেকটোরাল কলেজের ভোটের পর স্থানীয় সময় রাত ৮টায় জো বাইডেনের ভাষণ দেওয়ার কথা। আগামী ২০ জানুয়ারি জো বাইডেন দেশটির ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন। খবর সিএনএনের
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার ইলেকটররা প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টকে চূড়ান্ত করতে ভোট দেন। বিভিন্ন রাজ্যের ইলেকটররা গভর্নর অফিস কিংবা ক্যাপটিল ভবনে জড়ো হন ভোট দিতে। গতকাল রাত একটা ৫০ পর্যন্ত এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাইডেন ১৫৬টি এবং ট্রাম্প ১০৬টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন। তিনটি রাজ্যের ভোট নিয়ে আশংকা ছিল এগুলোর ভোট বাইডেনের পক্ষে পড়বে কিনা। কারণ এসব রাজ্যে ট্রাম্প ২০১৬ সালে জয় পেয়েছিলেন। তবে সেই তিন রাজ্য অ্যারিজোনা (১১), জর্জিয়া (১৬) পেনসিলভেনিয়ার (২০) ইলেকটোরাল ভোট বাইডেনের পক্ষে পড়েছে। এছাড়া উইসকনসিন, কেনটাকি, ওহাইও, নর্থ ক্যারোলিনা, রোড আইল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, নিউ ইয়র্ক, কানেকটিকাট, জর্জিয়া, ডেলাওয়ার, নেভাদা, আইওয়া, সাউথ ক্যারোলিনা, আরকানসাস, ইলিনয়, ওকলাহোমা, মিসিসিপি, ইন্ডিয়ানা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, মেরিল্যান্ড, সাউথ ডাকোটা, কানসাস ও টেনেসিসে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারমন্টে প্রথম ভোট শুরু হয়। গত ৩ নভেম্বর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাইডেন ৩০৬টি এবং ট্রাম্প ২৩২টি ইলেকটোরাল ভোট পায়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো পরাজয় স্বীকার করেননি। তিনি বারবারই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করে যাচ্ছেন।
ফেডারেল আইনে সময় নির্দিষ্ট না করায় একেক রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভোট হয়। ইলেকটররা সাধারণত দলের প্রার্থীর বাইরে বিরোধীকে ভোট দেন। তবে ভোট দেওয়ার ইতিহাসও আছে। এদের বলা হয় বিশ্বাসহীন ইলেকটর। গত নির্বাচনে ১০ জন এবং ২০০০ সালের নির্বাচনে দুই জন ইলেকটর দলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তবে ১৭৯৬ সালে ইলেকটররা বিরোধী প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন যা ইতিহাস।
ফেডারেল আইন অনুযায়ী, সব রাজ্যের ইলেকটররা কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য নন। তারা পছন্দমতো কাউকে ভোট দিতে পারেন। ৩২টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় নির্দিষ্ট প্রার্থীকেই ভোট দিতে বাধ্য ইলেকটররা। যিনি পপুলার ভোটে জিতবেন তাকেই ভোট দিতে হবে তাদের। বেশির ভাগ রাজ্যেই নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট না দিলে ইলেকটরদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তির বিধান নেই। মাত্র পাঁচটি রাজ্যে শাস্তির আইন আছে। এর মধ্যে কোনো রাজ্যে জেল এবং কোনো রাজ্যে জরিমানার বিধান রয়েছে। সোমবারের ভোটের ফলাফল কংগ্রেস এবং ন্যাশনাল আর্কাইভে পাঠানো হবে। ৬ জানুয়ারি দুপুর একটায় কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন বসবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।
