মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাছেত করিমের সনদ বাতিলের সিদ্ধান্তে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্ধ ও হতবাক হয়েছেন। তারা জানান, তিনি পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এলেঙ্গা-ভুয়াপুর রাস্তার নগরবাড়ী সেতুর নিকট সম্মুখযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। অথচ গত ৬ ডিসেম্বর তারিখে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় জামুকা কর্তৃক ৫২ জন মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও গেজেট বাতিল হচ্ছে শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে আব্দুল বাছেত করিমের নামও রয়েছে।
জানা যায়, ১৯৭১ সালে ঘাটাইল ঈদগাহ মাঠে আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত মোয়াজ্জেম হোসেন খানের নেতৃত্বে কিশোর ও তরুণ হিসেবে শহিদ কাজী আব্দুল হামিদ, মো. খসরু মিয়া (বীর প্রতীক), হেকমত বাঙ্গাল, মো. শাহাদত্ হোসন ও আব্দুল বাছেত করিম সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নেন। কোম্পানি কমান্ডার খোরশেদ আলম তালুকদারের (বীর প্রতীক) নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন বাছেত করিম। স্বাধীনতার তিনি ঘাটাইল থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার পদে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালন করেন। তার যুদ্ধাহত গেজেট নম্বর ৬০৬, জাতীয় তালিকা নম্বর ২৭৮, বাংলাদেশ গেজেট নম্বর ৪৯৯৫, লাল মুক্তিবার্তা নং ০১১৮০৪০৪৪২।
তার সহযোদ্ধা গৌরাঙ্গী গ্রামের মো. শাহাদত্ হোসেন ও লোকেরপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হায়দার আলী তালুকদার, ছয়ানি বকশিয়া গ্রামের আশরাফ আলী তালুকদার, রতনপুর গ্রামের নূরুল ইসলাম মন্টু বলেন, তার মতো একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার গেজেট ও সনদ বাতিল হলে সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। আব্দুল বাছেত করিম বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আমার গেজেট ও সনদ বাতিলের বিষয়টি গভীর ষড়যন্ত্র। খোরশেদ আলম তালুকতার (বীর প্রতীক) বলেন, আব্দুল বাছেত করিম আমার অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. ফজলুল হক (বীর প্রতীক) জানান, আব্দুল বাছেত করিমের গেজেট ও সনদ বাতিল করা মানে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করা।
